মোদি সরকারের ১০,৭৮৩ কোটি রুপির রেল প্রকল্পে বদলাবে ৫ রাজ্যের যোগাযোগ

৫ রাজ্যে ৬৫৬ কিলোমিটার রেলপথ সম্প্রসারণ, মোদি সরকারের ১০,৭৮৩ কোটি প্রকল্পে বদলাবে যোগাযোগ ও বাণিজ্যের চিত্র।

মোদি সরকারের ১০,৭৮৩ কোটি রুপির রেল প্রকল্পে বদলাবে ৫ রাজ্যের যোগাযোগ

মোদি সরকারের ১০,৭৮৩ কোটি রুপির রেল প্রকল্পে বদলাবে ৫ রাজ্যের যোগাযোগ


ভারতের রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দেশটির মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত কমিটি পাঁচ রাজ্যে তিনটি বড় রেল মাল্টিট্র্যাকিং প্রকল্প অনুমোদন করেছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৭৮৩ কোটি রুপি এবং কাজগুলো ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প তিনটি পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগড়ের ১৪টি জেলার মধ্য দিয়ে যাবে। এর ফলে ভারতীয় রেল নেটওয়ার্কে প্রায় ৬৫৬ কিলোমিটার অতিরিক্ত ট্র্যাকিং সক্ষমতা যুক্ত হবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪ হাজার ৭৯০টি গ্রাম এবং প্রায় ৫৬ লাখ মানুষ এই রেল অবকাঠামো উন্নয়নের আওতায় আসবেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে খড়গপুর–ঝাড়সুগুড়া এলাকার বাগদেহী পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন, কাটনি–পেন্দ্রা রোড চতুর্থ লাইন এবং বিলাসপুরের উসলাপুর–পেন্দ্রা রোড তৃতীয় লাইন। এসব রুটে অতিরিক্ত লাইন যুক্ত হলে ব্যস্ত রেলপথে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা বাড়বে এবং একই লাইনে ট্রেনের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পগুলো প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি জাতীয় মহাপরিকল্পনার আওতায় নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো রেলপথের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে গতি আনা এবং বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা।

এই প্রকল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্বও বড়। সরকারি হিসাবে, নতুন সক্ষমতার মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টন অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে কয়লা, সিমেন্ট, লোহা ও ইস্পাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপণ্য পরিবহনে এর প্রভাব পড়বে। ফলে শিল্পাঞ্চল ও বাজারের মধ্যে পণ্য সরবরাহ আরও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে পর্যটন ও ধর্মীয় স্থানগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ উন্নত হবে। সরকারি তালিকায় তারাতারিণী মন্দির, ঝাড়সুগুড়ার প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির, বান্ধবগড় টাইগার রিজার্ভ, অমরকণ্টক মন্দির, আচানকামার টাইগার রিজার্ভ এবং রতনপুর মহামায়া মন্দিরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবেশগত দিক থেকেও প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরেছে ভারত সরকার। সরকারি হিসাবে, রেলপথে পণ্য পরিবহন বাড়লে প্রায় ১২ কোটি লিটার তেল আমদানি কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৬২ কোটি কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সরকারি তুলনায় প্রায় ২ কোটি ৪৮ লাখ গাছ লাগানোর সমপরিমাণ।

এই রেল প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে শুধু নতুন ট্র্যাক যুক্ত করাই নয়, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও পণ্য পরিবহন করিডোরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে যাত্রী পরিবহন, শিল্প উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

১০ হাজার ৭৮৩ কোটি রুপির এই উদ্যোগ ভারতের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি বড় অবকাঠামোগত সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পগুলো শেষ হলে পাঁচ রাজ্যের ১৪টি জেলার রেল সক্ষমতা ও সংযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার প্রত্যাশা করছে সরকার।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর