কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে মেইনের ক্ষতির আশঙ্কা, হোয়াইট হাউসকে কড়া সতর্কবার্তা

কানাডার সঙ্গে শুল্কযুদ্ধে মেইনের পরিবার, কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীদের বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সিনেটর সুসান কলিন্স।

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে মেইনের ক্ষতির আশঙ্কা, হোয়াইট হাউসকে কড়া সতর্কবার্তা

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে মেইনের ক্ষতির আশঙ্কা, হোয়াইট হাউসকে কড়া সতর্কবার্তা


কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিরোধ ও শুল্কনীতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করেছেন মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স।

পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কলিন্স বলেন, কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের কারণে মেইনের পরিবার, ক্ষুদ্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং কৃষিপণ্য খাত যে ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে, তা ফেডারেল প্রশাসন যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে না।

কলিন্সের মতে, ওয়াশিংটন এই বাণিজ্য বিরোধকে মূলত বৃহৎ অর্থনীতির একটি সামষ্টিক বা ‘ম্যাক্রো’ ইস্যু হিসেবে দেখছে। কিন্তু মেইনের মতো সীমান্তবর্তী একটি অঙ্গরাজ্যে এর স্থানীয় বা ‘মাইক্রো’ প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে।

তিনি বলেন, মেইনের অর্থনীতি কানাডার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ফলে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হলে শুধু বড় ব্যবসা নয়, সাধারণ পরিবার, ছোট উৎপাদনকারী এবং কৃষকরাও বাড়তি খরচের মুখে পড়তে পারেন।

মেইনের সঙ্গে কানাডার প্রায় ৬১১ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের দুই পাশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। মেইনের বিভিন্ন ব্যবসা ও শিল্প কানাডার বাজার, সরবরাহব্যবস্থা এবং সীমান্ত বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল।

কলিন্সের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মেইন প্রতি বছর কানাডা থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের অ-পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করে। ফলে শুল্ক বাড়লে এসব পণ্যের মূল্য বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসার উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।

সিনেটর কলিন্স এর আগেও সতর্ক করে বলেছেন, কানাডার ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলে মেইনের ব্যবসা ও পরিবারগুলোর ব্যয় বাড়তে পারে। বিশেষ করে কানাডার সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা শিল্পগুলোতে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মেইনের কৃষি ও খাদ্যপণ্য খাতও এ ধরনের বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কৃষিপণ্য, কাঠ, উৎপাদিত সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ও বাজার কানাডার সঙ্গে যুক্ত।

কলিন্সের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—জাতীয় পর্যায়ে শুল্কনীতি থেকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব করার পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে এর বাস্তব প্রভাবও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে শুল্ক ও পাল্টা শুল্কের সিদ্ধান্ত ব্যবসা, ভোক্তা এবং সীমান্তবর্তী অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। মেইনের মতো কানাডা-সংলগ্ন অঙ্গরাজ্যগুলোতে এই প্রভাব আরও দ্রুত দৃশ্যমান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কলিন্সের সতর্কবার্তা তাই শুধু মেইনের অর্থনীতি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির স্থানীয় প্রভাব নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর