পরীক্ষার মুখে বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে শিশু, সীতাপুরে ভাইরাল আবেগঘন বার্তার নিউজ রিপোর্ত

অন্ধকারে মোমের আলোয় আয়াত ফাতেমার মতো শিশুদের অনিশ্চিত পড়াশোনা এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ও সড়ক সংস্কারের আকুল আবেদন।

পরীক্ষার মুখে বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে শিশু, সীতাপুরে ভাইরাল আবেগঘন বার্তার নিউজ রিপোর্ত

পরীক্ষার মুখে বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে শিশু, সীতাপুরে ভাইরাল আবেগঘন বার্তার নিউজ রিপোর্ত


সীতাপুরে মাহমুদাবাদের আদর্শ নগর কলোনির বাসিন্দা আট বছরের স্কুলছাত্রী আয়াত ফাতেমা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগপ্রবণ বার্তা পাঠিয়েছে। হাত জোড় করে জেলা শাসকের কাছে বিদ্যুৎ সংযোগের আকুল আবেদন জানিয়ে সে বলেছে, সামনে পরীক্ষা, কিন্তু আলো না থাকায় পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই সাথে রাস্তার জমা জল ও খানাখন্দের কারণে স্কুলে যাওয়াও চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগের চিত্রটি সবার সামনে তুলে ধরেছে।

আট বছরের শিশু আয়াত ফাতেমার আকুল আবেদন কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের সমাজ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার এক নির্মম প্রতিফলন। শিশুটি কোনো বিলাসবহুল জীবন চায়নি, চেয়েছে কেবল তার শিক্ষার অধিকারটুকু রক্ষা করার ব্যবস্থা—একটু আলো এবং স্কুলে নিরাপদে যাওয়ার রাস্তা।

যে বয়সে একটি শিশুর মনজুড়ে কেবল স্বপ্ন আর উদ্দীপনা থাকার কথা, সেখানে তাকে আলোর দাবিতে জেলা শাসকের কাছে হাত জোড় করতে হচ্ছে। এই চিত্র প্রমাণ করে যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধার দাবিগুলো কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। সামনে পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে দিন কাটানো এবং খানাখন্দে ভরা বিপজ্জনক রাস্তা পার হয়ে স্কুলে যাওয়া শিশুদের জন্য মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক ঝুঁকি তৈরি করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর হয়তো তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে, তবে মূল প্রশ্নটি থেকেই যায়—একটি শিশুর ভিডিও ভাইরাল না হওয়া পর্যন্ত কি প্রশাসন সমস্যার তীব্রতা অনুধাবন করতে পারে না? প্রাথমিক শিক্ষাকে সবার জন্য সহজ ও সুরক্ষিত করা সরকারের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।

আয়াত ফাতেমার এই মানবিক বার্তা যেন কেবল লাইক-শেয়ারের মধ্যেই আটকে না থাকে। সীতাপুরের মাহমুদাবাদের এই এলাকাটিতে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছানো এবং রাস্তা সংস্কারের স্থায়ী সমাধান করাই হবে এই আবেদনের প্রকৃত ইতিবাচক পরিণতি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর