পাকিস্তানে আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, বাড়ছে বহিষ্কারের শঙ্কা

পাকিস্তানের আফগান প্রত্যাবাসন নীতিতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ভিসা ও পড়াশোনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তবে বহিষ্কারের সার্বিক সরকারি ঘোষণা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

পাকিস্তানে আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, বাড়ছে বহিষ্কারের শঙ্কা

পাকিস্তানে আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, বাড়ছে বহিষ্কারের শঙ্কা


পাকিস্তানে বসবাসরত আফগান নাগরিকদের বিরুদ্ধে দেশটির চলমান প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপরও। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা আফগান শিক্ষার্থীরা ভিসা, বৈধ কাগজপত্র এবং দেশে অবস্থানের অনুমতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। 


পাকিস্তান ২০২৩ সাল থেকে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রত্যাবাসন অভিযান শুরু করে। পরবর্তী সময়ে এই নীতি আরও বিস্তৃত হয় এবং আফগান নাগরিকদের একটি বড় অংশ এর আওতায় আসে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাও আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর সময় মানবিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। 


এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মেডিকেল কলেজ ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকের শিক্ষা কার্যক্রম মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা বৈধ থাকার অনুমতি না থাকলে শিক্ষার্থীরাও পাকিস্তানের অভিবাসন আইনের আওতায় পড়তে পারেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আফগান শিক্ষার্থীদের ভিসা-সংক্রান্ত সংকটের কথাও উঠে এসেছে।


তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা করে “সবাইকে বহিষ্কার” করার কোনো নিশ্চিত সরকারি ঘোষণা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বরং তাদের ঝুঁকি মূলত পাকিস্তানের বৃহত্তর আফগান প্রত্যাবাসন নীতি, ভিসার বৈধতা এবং ব্যক্তিগত অভিবাসন অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কের অবনতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পাকিস্তানে সশস্ত্র হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। আফগান কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 


এই নিরাপত্তা উত্তেজনার প্রভাব সাধারণ আফগান নাগরিকদের ওপরও পড়ছে। পাকিস্তানে থাকা আফগানদের মধ্যে যাদের বৈধ ভিসা, নিবন্ধন বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি নেই, তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর