১২ দেশের ইসরায়েলি বসতির পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার অভিযোগে যুক্তরাজ্যসহ ১২ দেশ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।

১২ দেশের ইসরায়েলি বসতির পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা

১২ দেশের ইসরায়েলি বসতির পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা


পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ ১২টি দেশ। মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। 

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার পাশাপাশি ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। দেশগুলো জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে বলে তারা মনে করছে। 

যুক্তরাজ্য সবচেয়ে স্পষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে লন্ডন। 

ফ্রান্স ও কানাডাও বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তবে এই পদক্ষেপকে ইসরায়েলের সব পণ্যের ওপর পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। মূলত অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে আসা পণ্যকে লক্ষ্য করেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

ইসরায়েলি বসতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বহু দেশ পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে। ইসরায়েল অবশ্য এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় এবং পশ্চিম তীরের ওপর ঐতিহাসিক ও নিরাপত্তাগত অধিকারের দাবি করে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, বসতিগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে। তবে রাজনৈতিকভাবে এটি ইসরায়েলের ওপর ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

এদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এটিকে একতরফা চাপ হিসেবে দেখছেন এবং পাল্টা কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে এরই মধ্যে পশ্চিম তীর, গাজা ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে মতপার্থক্য আরও গভীর হয়েছে। 

নতুন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা অর্থনৈতিক প্রভাবের চেয়ে কূটনৈতিকভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার মতো ইসরায়েলের ঐতিহ্যগত মিত্রদের এমন অবস্থান ইসরায়েলি বসতি নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে ১২ দেশের যৌথ অবস্থান পশ্চিম তীরে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে তাদের সমর্থনও স্পষ্ট করছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর