সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই হামলার ঘটনাটি ৮ সেপ্টেম্বর নয়, ২ ও ৩ সেপ্টেম্বরের বলে সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা ও আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান, রাডার ব্যবস্থা এবং সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলায় বিস্ফোরক ড্রোনের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়।
আল ধাফরা বিমানঘাঁটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর একটি এবং সেখানে মার্কিন বিমানবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। ঘাঁটিটি গোয়েন্দা নজরদারি, আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক অভিযানের সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ইরানের সেনাবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল মার্কিন বাহিনীর রাডার ও অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা। একই সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনেও মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
৩ সেপ্টেম্বর ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও ওই সময় ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছিল। ফলে হামলাগুলোকে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সংঘাতের প্রভাব সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান একই সময়ে বাহরাইন, কুয়েত ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকায় মার্কিন বাহিনী বা তাদের সহযোগী স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। বিভিন্ন দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার খবরও এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক কার্যক্রম এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সেনাদের জন্য তৈরি হুমকি মোকাবিলায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হওয়ায় এই অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে ৮ সেপ্টেম্বর ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক হামলা চালিয়েছে। রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয় এবং ৭৩ জন আহত হন। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দাবি শুধু দুই দেশের সরাসরি সংঘাতের বিষয় নয়। এর সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, আঞ্চলিক মিত্ররাষ্ট্র এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথের নিরাপত্তাও জড়িয়ে পড়েছে।