ইউপিআইকে আরও দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান মোদির

ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ইউপিআইকে আরও দেশে সম্প্রসারণের পাশাপাশি ঋণ, সঞ্চয়, বিমা ও পেনশনে ফিনটেক বাড়ানোর আহ্বান মোদির।

ইউপিআইকে আরও দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান মোদির
ইউপিআইকে আরও দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান মোদির

ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআইকে বিশ্বের আরও বেশি দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে ফিনটেক খাতকে শুধু ডিজিটাল অর্থ লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ঋণ, সঞ্চয়, বিমা, পেনশন ও অন্যান্য আর্থিক সেবায় সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার মুম্বাইয়ে গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোদি এসব কথা বলেন। এবারের সম্মেলন ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো—প্রভাব তৈরির সম্ভাবনা, এজেন্টিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, টোকেনায়ন ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মাধ্যমে আস্থাভিত্তিক, সংযুক্ত ও বৈশ্বিক অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থা তৈরি। 

মোদি বলেন, গত এক দশকে ভারতের ফিনটেক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আধার, ইন্টারনেট সংযোগ এবং ইউপিআইয়ের মতো ডিজিটাল অবকাঠামো ভারতের আর্থিক সেবাকে দ্রুত ও সহজলভ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইউপিআই বর্তমানে ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে। 

ভারত সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইউপিআই বর্তমানে ১১টি বিদেশি দেশে চালু রয়েছে। এর মধ্যে ভুটান, নেপাল, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, শ্রীলঙ্কা, মরিশাস ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশ রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে কম্বোডিয়ায় ইউপিআই গ্রহণের সুবিধা চালু হয়। একই সময়ে গ্রিসে ভারত-গ্রিস সীমান্তপারের অর্থ স্থানান্তরের জন্য ইউপিআই কার্যকর হয়। ৩০ জুলাই মালদ্বীপের তাৎক্ষণিক পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘ফাভারা’র সঙ্গে ইউপিআইয়ের সীমান্তপারের অর্থ স্থানান্তর চালু হয়। 

ভারত সরকার জানিয়েছে, আগস্ট ২০২৬-এ ইউপিআইয়ের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৪৫০ কোটি লেনদেন হয়েছে। একই সরকারি হিসাবে, ইউপিআই বিশ্বের তাৎক্ষণিক ডিজিটাল লেনদেনের প্রায় ৫০ শতাংশের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ১১টি দেশে কার্যকর রয়েছে। 

মোদি আরও জোর দিয়েছেন, ফিনটেকের ভবিষ্যৎ শুধু অর্থ পরিশোধের প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে যেসব মানুষ এখনো প্রচলিত আর্থিক সেবার বাইরে রয়েছেন, তাদের কাছে ঋণ, সঞ্চয়, বিমা ও পেনশনের মতো সেবা সহজে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

এ ছাড়া এজেন্টিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, টোকেনায়ন ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো নতুন প্রযুক্তি আর্থিক খাতে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও সম্মেলনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আর্থিক সেবাকে আরও দ্রুত, স্বয়ংক্রিয় ও কার্যকর করার সম্ভাবনা তৈরি করছে। 

তবে ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও গ্রাহক সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তথ্যের নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার, সাইবার নিরাপত্তা এবং গ্রাহকের অধিকার রক্ষাকে ফিনটেক খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের মোট ডিজিটাল পেমেন্ট লেনদেনের পরিমাণে ইউপিআইয়ের অংশ ছিল প্রায় ৮৪ শতাংশ। একই সময়ে ইউপিআইয়ের বার্ষিক লেনদেনের সংখ্যা ২৪ হাজার ১৬২ কোটির বেশি এবং মোট লেনদেনের মূল্য প্রায় ৩১৪ লাখ কোটি রুপি হয়েছে।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…