বন্যাদুর্গতদের অনলাইনে হয়রানির বিরুদ্ধে নেপালে কঠোর অভিযান

বন্যাদুর্গতদের অনলাইনে অপমান ও হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর নেপাল, গঠিত সাইবার তদন্ত দল, গ্রেপ্তার একজন; গুজব ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যেও নজরদারি চলছে।

বন্যাদুর্গতদের অনলাইনে হয়রানির বিরুদ্ধে নেপালে কঠোর অভিযান

বন্যাদুর্গতদের অনলাইনে হয়রানির বিরুদ্ধে নেপালে কঠোর অভিযান


নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্য চাওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে করা অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সতর্ক করে বলেছেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে উপহাস, অপমান বা আরও কষ্ট দেয়—এমন ব্যক্তিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এরপর নেপাল পুলিশের সাইবার ব্যুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা আপত্তিকর মন্তব্য শনাক্ত করতে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করেছে। 

গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যার পর অনেক পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে আবেদন জানায়। এসব পোস্টের নিচে কিছু ব্যবহারকারী অশালীন, বিদ্বেষপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন। বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে লক্ষ্য করে কিছু মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। 

সাইবার ব্যুরোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঠিকানা ও ফোন নম্বর খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে বাইটাদির এক ব্যক্তিকে বন্যাদুর্গতদের জাতিগত পরিচয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

পুলিশ একই সঙ্গে বন্যাকে কেন্দ্র করে ছড়ানো গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুয়া খবরও পর্যবেক্ষণ করছে। পুলিশের হিসাবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭৩টি ভুল তথ্য ও গুজব শনাক্ত হয়েছে; এর মধ্যে ১৬৮টি ফেসবুক, চারটি টিকটক এবং একটি ইনস্টাগ্রামে ছিল। ইতোমধ্যে ৮৩টি কনটেন্ট সরানো হয়েছে। 

নেপাল সরকার বলছে, দুর্যোগের সময়ে ভুক্তভোগীদের সহায়তার পরিবর্তে তাদের হয়রানি বা বিদ্বেষ ছড়ানো সামাজিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। তাই অনলাইনে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর