সামারিয়ায় ইসরায়েলি নাগরিককে ছুরিকাঘাত, হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা
পশ্চিম তীরে খামারে ছুরিকাঘাতে ইসরায়েলি নাগরিক গুরুতর আহত, পালানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সামারিয়ায় ইসরায়েলি নাগরিককে ছুরিকাঘাত, হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা
পশ্চিম তীরের সামারিয়া এলাকায় একটি কৃষিখামারে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় প্রায় ২০ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর সকালে মাওজ ইয়েহুদা ফার্মে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ইসরায়েলি ও স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী একটি গাড়িতে করে ওই এলাকায় আসে। পরে সেখানে থাকা এক ইসরায়েলি নাগরিকের সঙ্গে কথা বলার সময় তাকে লক্ষ্য করে ছুরি দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় ওই ব্যক্তি শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাত পান।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হামলাকারী ভুক্তভোগীকে তার কাছে অস্ত্র আছে কি না, তা জানতে চেয়েছিল। এরপরই ছুরি দিয়ে আক্রমণ শুরু করে। জরুরি চিকিৎসা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে রাবিন মেডিকেল সেন্টারের বেইলিনসন ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়। তিনি তখনও সচেতন ছিলেন এবং তার অবস্থা মাঝারি থেকে গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
হামলার সময় এতবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল যে হামলাকারীর ছুরিটি ভেঙে যায় বলে উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে। এই কারণে হামলা আর চালিয়ে যেতে পারেনি সে। ঘটনাটির এই তথ্য ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও জরুরি উদ্ধারকারী সূত্রেও প্রকাশিত হয়েছে।
হামলার পর হামলাকারী একটি গাড়িতে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ইসরায়েলি বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় তল্লাশি শুরু করে এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায় এবং কয়েকটি জায়গায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
পরে ইসরায়েলি সেনারা হামলাকারীকে একটি গাড়ির কাছে শনাক্ত করে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে থামানোর চেষ্টা করা হলে সে সৈন্যদের ওপরও ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা করে। এরপর ৪১১তম আর্টিলারি ব্যাটালিয়নের একজন কমান্ডার গুলি চালান এবং হামলাকারী নিহত হয়।
ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হামলাকারীকে ধাওয়া করে হত্যার জন্য সেনাদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা জোরদার করার কথা জানান।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই দিনে পশ্চিম তীরের অন্য একটি ঘটনায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও এসেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে সহিংসতা বেড়েছে এবং বসতি স্থাপনকারী, ফিলিস্তিনি বাসিন্দা ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
এই ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আহত ইসরায়েলি নাগরিকের অবস্থা হামলার পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীল থাকলেও তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। অন্যদিকে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে জীবিত আটক করা সম্ভব হয়নি; ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে সে নিহত হয়েছে।
ঘটনাটি পশ্চিম তীরে চলমান নিরাপত্তা উত্তেজনার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হামলাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে, যদিও এ ধরনের ঘটনায় ব্যবহৃত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ভাষ্য নিয়ে পক্ষগুলোর অবস্থান ভিন্ন।