আটলান্টায় ভয়াবহ ঝড়ে গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, অন্ধকারে হাজারো পরিবার দীর্ঘ দুর্ভোগে

শক্তিশালী ঝড়ে গাছ ও বিদ্যুৎলাইন ভেঙে মেট্রো আটলান্টায় হাজারো পরিবার বিদ্যুৎহীন, জরুরি কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে দিনরাত কাজ করছেন আজ দ্রুত।

আটলান্টায় ভয়াবহ ঝড়ে গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, অন্ধকারে হাজারো পরিবার দীর্ঘ দুর্ভোগে

আটলান্টায় ভয়াবহ ঝড়ে গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, অন্ধকারে হাজারো পরিবার দীর্ঘ দুর্ভোগে


যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের মেট্রো আটলান্টা এলাকায় শক্তিশালী ঝড়ের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। ঝোড়ো বাতাসে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎলাইন ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এক পর্যায়ে পাঁচ লাখ নয়, বরং পঞ্চাশ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বিদ্যুৎ সংস্থার তথ্য জানিয়েছে। পরে মেরামতকাজ এগিয়ে যাওয়ায় বিভ্রাটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। 


ফক্স ৫ আটলান্টার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বিকেলে মেট্রো আটলান্টার ওপর দিয়ে শক্তিশালী ঝড়ের একটি লাইন অতিক্রম করে। ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল পর্যন্ত ঝোড়ো বাতাস ছিল। এই বাতাসের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বড় গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেক জায়গায় বিদ্যুৎলাইন ছিঁড়ে যায়। 


ঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ফুলটন কাউন্টি ও আশপাশের এলাকায়। বিদ্যুৎ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে শুধু ফুলটন কাউন্টিতেই ৩৪ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। কাব কাউন্টিতেও শত শত গ্রাহক বিদ্যুৎ হারান। হল কাউন্টিতে জ্যাকসন ইএমসি একসময় ১৪ হাজারের বেশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছিল। পরে সেখানে এই সংখ্যা কমে প্রায় সাড়ে চার হাজারে নেমে আসে।


দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টার একটি এলাকায় একটি বিশাল গাছ উপড়ে গিয়ে বিদ্যুৎলাইন ও ট্রান্সফরমারের ওপর পড়ে। এতে পুরো একটি আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের সময় পরিস্থিতি এত দ্রুত খারাপ হয় যে অনেকে বুঝে ওঠার আগেই বিদ্যুৎ চলে যায় এবং রাস্তা গাছ ও তারে আটকে যায়।


রোজওয়েল এলাকাতেও ঝড়ের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। ফায়ার বিভাগের সদস্যরা বেশ কয়েকটি গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হওয়ার খবর পান। একটি বড় গাছ একটি বাড়ির ওপরও পড়ে। তবে ওই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


আটলান্টার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাতেও সমস্যা তৈরি হয়। কিছু এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ হয়ে যায়। পিচট্রি স্ট্রিটের দিকে যাতায়াতকারী চালকদেরও বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হয়। গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হওয়ায় জরুরি পরিষেবার গাড়ি চলাচলেও কোথাও কোথাও সমস্যা তৈরি হয়েছিল। 


ঝড়ের সময় জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা মেট্রো আটলান্টার বিভিন্ন কাউন্টির জন্য তীব্র বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি করেছিল। কয়েকটি এলাকায় প্রায় এক ইঞ্চি ব্যাসের শিলাবৃষ্টি এবং ক্ষতিকর বাতাসের আশঙ্কা ছিল। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং বিদ্যুৎলাইন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। 


বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ও গাছ সরানো। বিদ্যুৎ সংস্থার কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় ফায়ার বিভাগ ও জরুরি সেবার কর্মীরা রাস্তা পরিষ্কারে কাজ করেন। অনেক এলাকায় গাছ সরানোর পর বিদ্যুৎলাইন মেরামতের কাজ শুরু করা হয়।


জর্জিয়া পাওয়ারের বর্তমান নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, মাটিতে পড়ে থাকা বিদ্যুৎলাইনকে কখনো নিরাপদ ধরে নেওয়া যাবে না। এমন লাইন জীবন্ত থাকতে পারে এবং মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মানুষকে এসব লাইনের কাছাকাছি না যাওয়ার এবং জরুরি কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 


ঝড়ের পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চললেও সব এলাকায় একই সময়ে বিদ্যুৎ ফেরানো সম্ভব হয়নি। ফক্স ৫-এর আপডেট অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ হারালেও পরে এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে নেমে আসে। অর্থাৎ মেরামতকারী দলগুলো দ্রুত কাজ করেছে, তবে কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির কারণে সময় লেগেছে। 


এদিকে স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে আরও সতর্কতা ছিল। তীব্র গরমের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে আবারও ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ একটি ঝড় চলে গেলেই ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।


বিশেষ করে যেসব পরিবারের বাড়িতে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু বা বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারকারী মানুষ রয়েছেন, তাদের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই জরুরি অবস্থার জন্য ফোন চার্জ রাখা, টর্চ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখা এবং বিদ্যুৎলাইন থেকে দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর