স্কুলের ভাইরাল ‘ক্যাট ইন দ্য হ্যাট’ আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকদের সতর্ক করল পুলিশ
ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে স্কুলে হামলার গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক, শিশুদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের সতর্ক করেছে স্থানীয় পুলিশ।
স্কুলের ভাইরাল ‘ক্যাট ইন দ্য হ্যাট’ আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকদের সতর্ক করল পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল প্রবণতা নিয়ে স্কুল, পুলিশ ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জনপ্রিয় চরিত্র ‘ক্যাট ইন দ্য হ্যাট’-কে ব্যবহার করে তৈরি করা ভয়ংকর ছবি ও ভিডিওর সঙ্গে বিভিন্ন স্কুলে হামলার মিথ্যা হুমকি জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিশু ও অভিভাবকদের সতর্ক করেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই প্রবণতায় এমন পোস্ট দেখা যাচ্ছে যেখানে ‘ক্যাট ইন দ্য হ্যাট’-এর একটি ভীতিকর সংস্করণকে স্কুল, রাস্তা কিংবা বিভিন্ন এলাকার আশপাশে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনেক পোস্টে নির্দিষ্ট স্কুলের নাম ব্যবহার করে ভয় সৃষ্টি করা হচ্ছে।
কলোরাডোর একটি ঘটনায় পুলিশ শুক্রবার একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট সম্পর্কে জানতে পারে। পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছিল, ‘ক্যাট ইন দ্য হ্যাট’-এর পোশাক পরা কেউ একটি মধ্যবিদ্যালয় এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকায় উপস্থিত হবে। তদন্তের পর কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে বাস্তব হামলার বিশ্বাসযোগ্য হুমকি হিসেবে না পেলেও পোস্টটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এ ধরনের পোস্টের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, এগুলো দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ব্যক্তি মজা করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা পোস্ট কয়েক মিনিটের মধ্যে শত শত মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। এরপর অনেকে সত্যতা যাচাই না করেই সেটি আবার প্রকাশ করেন। এতে একটি স্থানীয় গুজব দ্রুত বড় ধরনের আতঙ্কে পরিণত হয়।টেনেসি অঙ্গরাজ্যের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির হুমকি মূল্যায়ন কেন্দ্রও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন স্কুলকে লক্ষ্য করে একই ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার কারণে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করেছে।
সান অ্যান্টোনিও, লারেডো, ফালফুরিয়াস এবং ক্রিস্টাল সিটির মতো টেক্সাসের কয়েকটি এলাকাতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন পোস্ট নিয়ে তদন্ত করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা অভিভাবকদের বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভয়ংকর পোস্ট দেখলে সেটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে না দিয়ে সরাসরি পুলিশ বা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে।কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের একটি বড় কারণ হলো—বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ছবি সম্পাদনার মাধ্যমে বাস্তবের মতো দেখতে ভুয়া ছবি তৈরি করা খুব সহজ। ফলে একটি ছবি সত্যি নাকি সম্পাদিত, সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে দ্রুত বোঝা কঠিন।
এ ধরনের গুজব শিশুদের ওপরও মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। কোনো শিক্ষার্থী যদি দেখে তার নিজের স্কুলের নাম ব্যবহার করে হামলার হুমকি ছড়ানো হচ্ছে, তাহলে সে স্কুলে যেতে ভয় পেতে পারে।অভিভাবকেরাও সন্তানকে স্কুলে পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ইন্টারনেটে কোনো পোস্টকে ‘শুধু মজা’ হিসেবে দেখলেও তার পরিণতি গুরুতর হতে পারে। কারণ কোনো নির্দিষ্ট স্কুল বা শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে ভয় বা হুমকি সৃষ্টি করলে তদন্ত শুরু হতে পারে এবং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ফৌজদারি অভিযোগও আনা হতে পারে।
কলোরাডোর ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে এবিসি নিউজ জানিয়েছে। তদন্তকারীরা কোনো বিশ্বাসযোগ্য বাস্তব হামলার প্রমাণ না পেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয় সৃষ্টিকারী পোস্ট করার ঘটনাটি আইনগত পরিণতি তৈরি করেছে।এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোর জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ সামনে এনেছে। শিক্ষার্থীরা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটায়। ফলে স্কুলের নিরাপত্তা শুধু স্কুল ভবনের দরজা, ক্যামেরা বা নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; অনলাইন জগতও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
অভিভাবকদের জন্য পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হলো—সন্তানের ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন থাকা, ভয়ংকর কোনো পোস্ট দেখলে সেটি সংরক্ষণ করা এবং সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো। একই সঙ্গে যাচাই না করে কোনো পোস্ট অন্যদের কাছে পাঠানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।এমন গুজবের সবচেয়ে কার্যকর জবাব হলো দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা। কোনো স্কুল সত্যিই ঝুঁকিতে আছে কি না, সে বিষয়ে স্কুল প্রশাসন বা স্থানীয় পুলিশই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারে।
এই ভাইরাল প্রবণতা তাই শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মজার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিশুদের নিরাপত্তা, অভিভাবকদের মানসিক উদ্বেগ, স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং অনলাইনে দায়িত্বশীল আচরণের প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক করছে—ভয়ংকর কোনো পোস্ট দেখলেই সেটিকে সত্য ধরে নেবেন না, আবার সম্ভাব্য হুমকিকেও সম্পূর্ণ উপেক্ষা করবেন না। যাচাই করে সরাসরি পুলিশ বা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানোটাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। বর্তমানে এই ‘ক্যাট ইন দ্য হ্যাট’ প্রবণতা নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সতর্কতা জারি থাকায় অভিভাবকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।