ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাতাউয়ের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, বাতিল হলো দেড় হাজারের বেশি ফ্লাইট

আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাতে আকাশ ছাইয়ে ঢেকে গেছে, বন্ধ হয়েছে বিমানবন্দর, বাতিল হয়েছে হাজারের বেশি ফ্লাইট।

ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাতাউয়ের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, বাতিল হলো দেড় হাজারের বেশি ফ্লাইট

ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাতাউয়ের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, বাতিল হলো দেড় হাজারের বেশি ফ্লাইট


ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির নতুন অগ্ন্যুৎপাত দেশটির বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। আগ্নেয়গিরি থেকে বিপুল পরিমাণ ছাই ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানী জাকার্তাসহ আশপাশের অঞ্চলের আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।


অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগ্নেয়গিরিটি রোববার দুই দফায় অগ্ন্যুৎপাত করে। মোট প্রায় ৪৬ সেকেন্ড ধরে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ছাইয়ের মেঘ আকাশে প্রায় ৫০ হাজার ফুট পর্যন্ত উঠে যায়। ছাইয়ের মেঘ জাকার্তা, বানতেন, ল্যাম্পুং এবং ভারত মহাসাগরের কিছু অংশের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।


নিরাপত্তার কারণে আটটি বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে জাকার্তার গুরুত্বপূর্ণ সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ছিল।


ফলে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।বিমান চলাচলের জন্য আগ্নেয় ছাই অত্যন্ত বিপজ্জনক। ছাই বিমানের ইঞ্জিনে ঢুকে ইঞ্জিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে এবং আকাশপথে দৃশ্যমানতা ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।


ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আগ্নেয়গিরির গর্ত থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত অগ্ন্যুৎপাতে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।


আনাক ক্রাকাতাউয়ের ইতিহাসও উদ্বেগজনক। ২০১৮ সালে এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর সমুদ্রে ভূমিধস থেকে সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনায় প্রায় ৪৩০ জন মারা যান। বর্তমান অগ্ন্যুৎপাত সেই ভয়াবহ স্মৃতি আবারও সামনে এনেছে।আগ্নেয়গিরিটির কার্যক্রম জুলাই থেকে বাড়তে শুরু করেছিল। ফলে বিজ্ঞানী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।


বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে তা নির্ভর করছে বাতাসের গতিপথ এবং আগ্নেয় ছাইয়ের ঘনত্বের ওপর। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিমান চলাচল বন্ধ হওয়ায় যাত্রীদের বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন এবং নতুন ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছেন।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দরগুলো পুরোপুরি চালু করা হবে না।ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরিপ্রবণ অঞ্চল। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে নিয়মিত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

তবে রাজধানীর বিমান চলাচলের ওপর এত বড় প্রভাব তৈরি হওয়ায় এবারের ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর