লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সাতজন নিহত, নতুন করে বাড়ছে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ভয়

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা নতুন করে দেখা দিয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সাতজন নিহত, নতুন করে বাড়ছে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ভয়

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সাতজন নিহত, নতুন করে বাড়ছে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ভয়


দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। হামলার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন করে বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই নারীও ছিলেন। ইসরায়েল দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার জবাবে তারা এসব হামলা চালিয়েছে।লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের তথ্য জানিয়েছে। আরব সালিম এলাকায় হামলায় ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।


লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন হামলার নিন্দা করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এবং বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।


ইসরায়েল অবশ্য দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর অস্ত্র সংরক্ষণ ও সামরিক স্থাপনা। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা বেসামরিক হতাহত কমানোর জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।কিন্তু স্থানীয় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত এলাকায় হামলা অব্যাহত রয়েছে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চের পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। এতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।


লেবাননের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। তার ওপর নতুন সামরিক সংঘাত শুরু হলে অবকাঠামো, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের চাপ পড়তে পারে।


হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি হামলাকে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।


এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লেবাননে বড় আকারের সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে।

এ কারণেই আন্তর্জাতিক মহল লেবাননে সংঘাত কমানোর আহ্বান জানাচ্ছে।


বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হামলার কারণে বহু পরিবারকে নিরাপদ এলাকায় সরে যেতে হচ্ছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর