গাজায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মিলল শতাধিক মরদেহ, স্বজনদের কান্নায় ভারী শোকের শহর

গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শতাধিক মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত নগরীর পরিবেশ।

গাজায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মিলল শতাধিক মরদেহ, স্বজনদের কান্নায় ভারী শোকের শহর

গাজায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মিলল শতাধিক মরদেহ, স্বজনদের কান্নায় ভারী শোকের শহর


যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শতাধিক মানুষের মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচে আটকে থাকা মরদেহগুলো উদ্ধারের পর স্বজনদের মধ্যে নতুন করে শোকের ঢেউ নেমে এসেছে।


আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা শহরের জেইতুন এলাকায় সম্প্রতি ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ১০০ মানুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একই পরিবারের বহু সদস্য ছিলেন। মরদেহগুলো পরে জানাজা ও দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।


উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় কর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষের মরদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধের সময় ভবনগুলো ধসে পড়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।কিছু পরিবার একসঙ্গে বহু সদস্য হারিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালাকা পরিবারেরই ৫৫ জন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭৩ হাজারের বেশি হয়েছে। নিহতদের বড় অংশ বেসামরিক নাগরিক বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করছে।


ইসরায়েল বলছে, তাদের সামরিক অভিযান হামাসের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস এবং হামলা ঠেকানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে ফিলিস্তিনি পক্ষ বারবার বেসামরিক মানুষের হতাহতের বিষয়টি তুলে ধরছে।ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি গাজার মানবিক সংকটের ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে।


অনেক পরিবার যুদ্ধের সময় স্বজনদের হারালেও মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিল—কখন ধ্বংসস্তূপ সরবে এবং প্রিয়জনের শেষ পরিচয় পাওয়া যাবে।


সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো পরিবারের জন্য যেমন গভীর শোকের কারণ হয়েছে, তেমনি অনেকের কাছে অন্তত শেষবারের মতো স্বজনকে বিদায় জানানোর সুযোগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গাজায় বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।


ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কত মানুষ আটকে আছেন, তার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। কারণ বহু এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে চলছে।


এই পরিস্থিতিতে গাজার মানুষের জন্য খাদ্য, পানি, চিকিৎসা এবং আশ্রয়ের সংকটও অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় এক বাবা ও তার আট বছর বয়সী মেয়ে নিহত হয়েছেন। 


ফলে গাজায় যুদ্ধের ক্ষত শুধু বর্তমান মৃত্যুতেই সীমাবদ্ধ নেই; ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মরদেহগুলো প্রতিদিন সেই ভয়াবহতার নতুন প্রমাণ হয়ে সামনে আসছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর