শিকাররা: ওর্তেগার দমননীতি থেকে পালাচ্ছে নিকারাগুয়ান নির্বাসিতরা
নিকারাগুয়ান নির্বাসিতদের নতুন করে জীবন বাঁচানোর দৌড় — অর্টেগার হাত সীমান্ত পেরিয়ে গেছে।
শিকাররা: ওর্তেগার দমননীতি থেকে পালাচ্ছে নিকারাগুয়ান নির্বাসিতরা
সান হোসে/মেক্সিকো সিটি, ১৭ অক্টোবর —
নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগার দমননীতি এখন দেশ ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। কোস্টারিকায় আশ্রয় নেওয়া বহু নিকারাগুয়ান নির্বাসিত এখন বলছেন, তারা সরকারের গুপ্তচর ও হামলাকারীদের নজরদারিতে রয়েছেন — ফলে অনেকেই আবার পালাতে বাধ্য হচ্ছেন, এবার ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায়।
বিরোধী নেতা হেনরি ব্রিসেনোকে গত বছর নিকারাগুয়ার পুলিশ পরিবারসহ জোরপূর্বক কোস্টারিকার সীমান্তে পাঠায়। সেখানে আশ্রয় নেওয়ার মাত্র সাত মাস পর, অচেনা মোটরসাইকেল আরোহী ও গাড়িতে আসা লোকেরা তাকে অনুসরণ করতে শুরু করে।
ব্রিসেনো বলেন, “আমরা বুঝেছিলাম সময়ের ব্যাপার মাত্র, আমাদেরও হত্যা করা হবে।” অবশেষে তিনি ও তার পরিবার ইউরোপে পাড়ি দেন।
এই ভয় আরও গভীর হয় রবার্তো সামকাম হত্যাকাণ্ডের পর। এই প্রাক্তন সান্দিনিস্তা কর্মকর্তা ও বিরোধী নেতাকে গত জুনে সান হোসেতে নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়। এটি ছিল ২০২৩ সালের পর কোস্টারিকায় তৃতীয় নিকারাগুয়ান নির্বাসিতের হত্যা।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ওর্তেগা সরকার বিদেশে নির্বাসিত বিরোধীদের টার্গেট করছে, যা তাদের দীর্ঘদিনের দমননীতির নতুন রূপ।
রয়টার্সের তথ্যমতে, গত আগস্ট থেকে অন্তত ৫০টি নিকারাগুয়ান পরিবার কোস্টারিকা ছেড়ে ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকায় পালিয়েছে।
কোস্টারিকার কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাসিতরা চাইলে নিরাপত্তা চাইতে পারেন, কিন্তু খুব কম মানুষই সেই আবেদন করেছেন।
এদিকে সামকাম হত্যার ঘটনায় চারজন কোস্টারিকান নাগরিক গ্রেফতার হলেও মূল হোতা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
২০১৮ সালের বিক্ষোভ দমনের পর থেকে ওর্তেগা ও তার স্ত্রী সহ-রাষ্ট্রপতি রোসারিও মুরিলো বিরোধীদের কারাবন্দি, নির্বাসিত ও নীরব করে রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এখন সেই ভয় সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে — নির্বাসিতরাও আর নিরাপদ নন।
নির্বাসিত মানবাধিকার কর্মী আলভারো লেইভা বলেন, “স্বৈরশাসকদের দমননীতির সীমা নেই — তারা দেশের ভেতর যেমন, বিদেশেও ভয় ছড়াচ্ছে।”