নতুন লড়াই, বার্তা হাসিনার: দেশে ফেরার ঘোষণা, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে নতুন লড়াইয়ের বার্তা শেখ হাসিনার, নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানালেন তিনি।

নতুন লড়াই, বার্তা হাসিনার: দেশে ফেরার ঘোষণা, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

নতুন লড়াই, বার্তা হাসিনার: দেশে ফেরার ঘোষণা, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান


বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

জুনের শেষ দিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে তিনি এ বছরই বাংলাদেশে ফিরবেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা তাঁর কাছে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; বরং তিনি এটিকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও দলটি রাজনৈতিকভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেন। একই সঙ্গে নারী, শিশু, শ্রমজীবী, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়েও গুরুত্ব দেন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়া বা অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করে না; এটি জনগণের ওপর নির্ভরশীল। তিনি দলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

তবে তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জুলাইয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি অংশ ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার বা অন্য কোনো পরিণতির আশঙ্কা থাকলেও দেশে ফিরতে চান।

পরবর্তীতে ৫ আগস্টের এক বক্তব্যেও তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানান বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রথম আলোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের ঘোষণা একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে দলীয় নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করা, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চাপ তৈরি এবং রাজনৈতিক পরিসর পুনরুদ্ধারের কৌশল হতে পারে—যদিও দলটির পক্ষ থেকে প্রত্যাবর্তনের বিস্তারিত সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

এদিকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিচারিক প্রক্রিয়া ও দণ্ডের বিষয়টি তাঁর দেশে ফেরার প্রশ্নকে আরও জটিল করেছে। ফলে তিনি ঘোষিত সময় অনুযায়ী দেশে ফিরবেন কি না, ফিরলে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন এবং তাঁর প্রত্যাবর্তন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে—এসব প্রশ্ন এখনো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর