আমেরিকার চাপে পিছিয়ে আসছে না ভারতের উন্নয়নযাত্রা
আজই মোদি অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে ₹১৩,৪২৯ কোটি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকৃতির ভিত্তিপ্রস্তর প্রস্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন।
আমেরিকার চাপে পিছিয়ে আসছে না ভারতের উন্নয়নযাত্রা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন একেন্দ্রিক জনপ্রিয়তায় বিশেষ স্থান লাভ করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নানা চাপ ও নীতি-সংকটে দাঁড়িয়ে ও বিদেশ নীতি-চক্রান্তে জোরদার ভূমিকায় থাকলেও, মোদির উন্নয়নমুখী প্রশাসন ও “অত্মনির্ভর ভারত” (Atmanirbhar Bharat) উদ্যোগের কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ জনমত তাঁর পক্ষে প্রবলভাবে শক্তিশালী হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ সংস্থা Morning Consult এক জরিপে মোদির জনপ্রিয়তা ৭৫ শতাংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা তাঁকে বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, মোদি ভারতের গ্লোবাল স্থানকে সাময়িক মধ্যশক্তি থেকে একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক খেলোয়াড়ে রূপান্তরিত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের পথে রয়েছেন।
মোদি প্রশাসন “অত্মনির্ভর ভারত” নীতিকে কেন্দ্রে রেখে দেশকে উৎপাদন, প্রযুক্তি, খাতে বৈচিত্র্য ও রপ্তানিতে নির্ভরশীলতা বাড়াতে কাজ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোদিকে “বন্ধু” হিসেবে বিবেচনা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে মোদি তেল আমদানিতে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে ভারতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয় (MEA) স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, মোদি এবং ট্রাম্পের মধ্যে এমন কোনো টেলিফোন আলাপের (যেখানে রাশিয়ার তেল বন্ধ করার বিষয়ে কথা বলা হয়েছে) কথা আদৌ ঘটেনি।
নতুন দিল্লির কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের পদক্ষেপ পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের চাপে স্থানান্তরিত হয়নি — বরং সফ্ট পলিসি ও কৌশলগত স্বনির্ভরতার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে।
আজই মোদি অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে ₹১৩,৪২৯ কোটি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকৃতির ভিত্তিপ্রস্তর প্রস্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন।
গুগল সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা ভারতের বিশাখাপত্তনমে একটি বড় এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন করবে, যার মূল্য প্রায় $১৫ বিলিয়ন হবে। এ প্রসঙ্গে গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই মোদির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতেও ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো হচ্ছে; নতুন ১০ বছরের “মেজর ডিফেন্স পার্টনারশিপ” কাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে।
যদিও মোদির ভাবমূর্তিতে রয়েছে চাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বিশেষ করে বিহারের রাজ্য নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যেখানে বেকারত্ব ও ভোটার তালিকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
তবে মোদি সরকার তার জনমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা, শূন্য থেকে উদ্ভাবন ও শিল্পায়নের দিকে যাত্রা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমন্বয়কে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে নিচ্ছে।