আইসিইর দ্রুত নিয়োগ নিয়ে পটভূমি যাচাই ও কর্মকর্তাদের মান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
আইসিইতে দ্রুত নিয়োগ নিয়ে অভ্যন্তরীণ সতর্কতা প্রকাশ্যে এসেছে, কর্মকর্তারা বলছেন পটভূমি যাচাই ও নিয়োগমান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আইসিইর দ্রুত নিয়োগ নিয়ে পটভূমি যাচাই ও কর্মকর্তাদের মান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইতে ব্যাপক নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তদন্তে উঠে এসেছে, সংস্থাটির দ্রুত কর্মী নিয়োগের সময় পটভূমি যাচাই ও নিয়োগের মান নিয়ে অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ ছিল।
এপি ৪ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, পটভূমি যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা একজন তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে আইসিইতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে নজিরবিহীনভাবে মান কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন প্রয়োগ জোরদারের অংশ হিসেবে আইসিইর জনবল দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। গত এক বছরেরও কম সময়ে প্রায় ১২ হাজার নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এই দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—এত বিপুল সংখ্যক নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত যোগ্যতা, পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড এবং নিরাপত্তা যাচাই যথেষ্ট সময় নিয়ে করা সম্ভব হয়েছে কি না।
এপি জানিয়েছে, সংস্থার পটভূমি যাচাই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজন সুপারভাইজার নিয়োগের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তার সতর্কতার মূল বিষয় ছিল নতুন কর্মীদের যাচাই প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য দুর্বলতা।
এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আইসিই কর্মকর্তারা অভিবাসন আইন প্রয়োগ, গ্রেপ্তার, আটক ও অপসারণসহ অত্যন্ত সংবেদনশীল দায়িত্ব পালন করেন। ফলে একজন কর্মকর্তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত পটভূমি যাচাই যথেষ্ট না হলে তা শুধু সংস্থার অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, নাগরিক অধিকার ও আইন প্রয়োগের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।
এপি এর আগে আইসিইর দ্রুত নিয়োগ নিয়ে আরেক তদন্তে জানিয়েছিল, কিছু নতুন কর্মকর্তা পটভূমি যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই কাজ শুরু করেছিলেন এবং কয়েকজনের অতীত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
তবে এসব প্রতিবেদনের অর্থ এই নয় যে আইসিইর সব নতুন কর্মকর্তা অনুপযুক্ত বা অপরাধমূলক অতীতের অধিকারী। বরং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো নিয়োগের গতি এবং সেই গতির সঙ্গে নিরাপত্তা যাচাইয়ের মান সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না।
বর্তমানে দ্রুত জনবল বৃদ্ধির ফলে সংস্থার ওপর কাজের চাপ ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে। নতুন কর্মকর্তাদের আইন, সাংবিধানিক অধিকার, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া এবং অভিবাসন আইনের জটিল বিষয়গুলো যথাযথভাবে শেখানো হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিবাসন নীতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন তীব্র। ফলে আইসিইর যেকোনো নিয়োগ বা অভিযান খুব দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে মূল প্রশ্নটি প্রশাসনিক—একটি বড় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যখন দ্রুত হাজার হাজার কর্মী নিয়োগ করে, তখন নিয়োগ ও যাচাইয়ের মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে।