ফরাসি প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু অনাস্থা ভোটে টিকে গেলেন, সামনে আরও চ্যালেঞ্জ
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু প্রথম অনাস্থা ভোটে টিকে গেছেন। সোশ্যালিস্ট পার্টির সমর্থন পাওয়ায় সরকার আপাতত রক্ষা পেলেও সামনে রয়েছে কঠিন বাজেট আলোচনার চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু অনাস্থা ভোটে টিকে গেলেন, সামনে আরও চ্যালেঞ্জ
প্যারিস : ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বৃহস্পতিবার সংসদে প্রথম অনাস্থা ভোটে টিকে গেছেন, ফলে তার মাত্র এক সপ্তাহের পুরোনো সরকার আপাতত ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।
ফ্রান্স আনবাউড (France Unbowed) নামের বামপন্থী দলের আনা অনাস্থা প্রস্তাবটি ২৭১ ভোট পায়, যা ক্ষমতাচ্যুত করতে প্রয়োজনীয় ২৮৯ ভোটের চেয়ে কম। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি (National Rally) দলের দ্বিতীয় অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
লেকর্নু সোশ্যালিস্ট পার্টির সমর্থন পান যখন তিনি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর বিতর্কিত পেনশন সংস্কার ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। এই সিদ্ধান্ত তার সরকারের জন্য সাময়িক স্বস্তি বয়ে আনে।
তবে এই ভোট দেখিয়েছে যে মাখোঁর প্রশাসন এখন কতটা দুর্বল ও বিভক্ত সংসদে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে।
পেনশন সংস্কার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত মাখোঁর অর্থনৈতিক নীতির মূল ভিত্তিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের অর্থনীতি চাপে, আর সামনে রয়েছে কঠিন বাজেট আলোচনার ধাপ।
যদি লেকর্নু দ্বিতীয় অনাস্থা ভোটে হেরে যান, তবে তাকে এবং তার মন্ত্রিসভাকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করতে হবে, আর প্রেসিডেন্ট মাখোঁর সামনে থাকবে নতুন সরকার গঠনের বা নির্বাচন ঘোষণার বাধ্যবাধকতা।
যদিও লেকর্নু টিকে যান, সামনে তাকে ২০২৬ সালের বাজেট পাস করাতে কঠিন আলোচনার মুখোমুখি হতে হবে। সোশ্যালিস্টরা ইতিমধ্যেই বিলিয়নিয়ারদের ওপর কর আরোপের দাবি তুলেছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করছে।
ফ্রান্স বর্তমানে দশকের সবচেয়ে অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘু সরকারগুলো ঘাটতি কমানোর বাজেট পাশ করাতে তিন ভাগে বিভক্ত সংসদের সঙ্গে লড়াই করছে।
(রয়টার্স)