শিশুযত্নের খরচে ভেঙে পড়ছে আমেরিকান পরিবার, কাজ হারানোর শঙ্কায় অসহায় বাবা-মায়েরা

সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় লাখো শিশু, ব্যয় সামলাতে খাবার কমাচ্ছেন পরিবার; কেউ সন্তানকে কর্মস্থলেও নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

শিশুযত্নের খরচে ভেঙে পড়ছে আমেরিকান পরিবার, কাজ হারানোর শঙ্কায় অসহায় বাবা-মায়েরা

শিশুযত্নের খরচে ভেঙে পড়ছে আমেরিকান পরিবার, কাজ হারানোর শঙ্কায় অসহায় বাবা-মায়েরা


এটি শুধু শিশুযত্নের সমস্যা নয়—অনেক পরিবারের জন্য এটি এখন সরাসরি জীবনযাত্রার সংকটে পরিণত হয়েছে। এপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় কিছু পরিবার খাবারের জন্য খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করছে, কেউ সন্তানকে কর্মস্থলে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে বাধ্য হচ্ছেন। 


ইন্ডিয়ানায় পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ দেখা গেছে। ২০২৬ সালের বসন্ত নাগাদ সেখানে প্রায় ৩৭ হাজার শিশু সরকারি শিশুযত্ন সহায়তার অপেক্ষায় ছিল বলে এপি জানিয়েছে। অর্থাৎ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় সহায়তা তাৎক্ষণিকভাবে পাচ্ছে না। 


এই সংকটের পেছনে বড় একটি কারণ হিসেবে করোনাভাইরাস মহামারির সময় দেওয়া প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল শিশুযত্ন সহায়তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াকে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই অর্থ শেষ হওয়ার পর অনেক অঙ্গরাজ্য নিজেদের মতো করে সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করলেও চাহিদার তুলনায় অর্থ কম পড়ে যাচ্ছে।


শিশুযত্নের খরচ যুক্তরাষ্ট্রের বহু পরিবারের মাসিক বাজেটের বড় অংশ দখল করে নেয়। বাবা-মায়ের দুজনেই চাকরি করলে শিশুকে কোথায় রাখা হবে, কত টাকা খরচ হবে এবং কাজের সময়ের সঙ্গে শিশুযত্নের সময় কীভাবে মিলবে—এসব প্রশ্ন প্রতিদিনের বাস্তব সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।


বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবার, গৃহহীন পরিবার এবং পালক পরিবারের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। শিশুযত্নের ব্যবস্থা না থাকলে বাবা-মায়ের একজনকে চাকরি ছেড়ে দিতে হতে পারে। এতে পরিবারের আয় কমে যায় এবং একই সঙ্গে শিশুযত্নের খরচ বহন করার ক্ষমতাও আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।


এটি একটি ভয়াবহ চক্র তৈরি করে। পরিবার শিশুযত্নের খরচ দিতে পারে না, তাই বাবা-মায়ের একজন কাজ করতে পারেন না; আয় কমে গেলে আবার শিশুযত্নের খরচ দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।


এপি জানিয়েছে, কিছু পরিবার পরিস্থিতি সামলাতে খাবারের জন্য খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র ব্যবহার করছে। আবার কেউ কেউ সন্তানকে কর্মস্থলে নিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি পালক পরিবারগুলোর মধ্যেও শিশুকে রাখার খরচ বহন করা সম্ভব হবে কি না—সেটি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 


এই বাস্তবতা শিশুদের শিক্ষার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ছোট বয়সে নিয়মিত ও নিরাপদ শিশুযত্ন শুধু বাবা-মায়ের কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়; শিশুর সামাজিক, মানসিক ও প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশের সঙ্গেও এটি সম্পর্কিত।


শিশুযত্ন সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার কতটা অর্থ দেবে এবং অঙ্গরাজ্যগুলো কতটা দায়িত্ব নেবে—এই প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে পরিবারগুলোর বাস্তব সমস্যা হলো, শিশুকে নিরাপদে রাখার জন্য প্রতিদিন অর্থের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।

এপি’র অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য তাই শুধু একটি সরকারি সহায়তা কর্মসূচির পরিসংখ্যান নয়। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে বাবা-মায়ের চাকরি, পরিবারের আয়, শিশুর নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার বিষয়।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—“লাখো শিশু সহায়তা পাচ্ছে না” কথাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না যে সব শিশুই সরকারি সহায়তার অধিকারী হয়েও সম্পূর্ণভাবে কোনো শিশুযত্ন পাচ্ছে না। প্রতিবেদনের নির্দিষ্ট তথ্য হলো, যোগ্য শিশুদের একটি বড় অংশ সরকারি অর্থায়নে শিশুযত্ন সহায়তার অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর