বিশ্বজুড়ে মার্কিন অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারে সাময়িক স্থগিতাদেশ, আবেদনকারীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ
নতুন যাচাই ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কারণে বিশ্বজুড়ে মার্কিন অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার সূচিতে সাময়িক পরিবর্তন এনেছে প্রশাসন।
বিশ্বজুড়ে মার্কিন অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারে সাময়িক স্থগিতাদেশ, আবেদনকারীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার কার্যক্রম সাময়িকভাবে সীমিত বা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করার উদ্যোগ চলছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২৬ আগস্ট বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারে সাময়িক বিরতির নির্দেশ দেয়। এর উদ্দেশ্য হিসেবে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নতুন প্রশিক্ষণ এবং আবেদনকারীদের সম্পর্কে আরও বিস্তৃত যাচাইয়ের প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে যেসব ব্যক্তি ইতোমধ্যে অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করেছেন এবং সাক্ষাৎকারের তারিখের অপেক্ষায় আছেন, তাদের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে কিংবা নতুন সময় নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।
তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। বরং অভিবাসী ভিসার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পর্যটক, ব্যবসায়ী বা অন্যান্য অ-অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা থাকতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিনও প্রকাশিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির অভিবাসী ভিসার জন্য ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ও আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ অভিবাসী ভিসা ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি; বরং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও সাক্ষাৎকার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে গত কয়েক মাসে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান বাড়ানোর পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাতেও যাচাই-বাছাই শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসনের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের দিক থেকে আরও গভীরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, অতিরিক্ত যাচাই এবং সাক্ষাৎকার বিলম্বের কারণে বৈধ আবেদনকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে যেসব পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের জন্য সাক্ষাৎকার পিছিয়ে যাওয়া মানে আরও দীর্ঘ অপেক্ষা।
পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে এই বিলম্বের প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। অনেক আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বামী, স্ত্রী, সন্তান বা বাবা-মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন হলে তাদের পারিবারিক পরিকল্পনাও পিছিয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য নতুন প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন চাইছে কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের আর্থিক অবস্থা, স্বাস্থ্য, সম্ভাব্য সরকারি সুবিধা গ্রহণের ঝুঁকি এবং অন্যান্য বিষয় আরও সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করুন।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি সহায়তার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরতার বিষয়টি মূল্যায়ন করা। এর ফলে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আরও বেশি তথ্য দিতে হতে পারে।
এই নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে আদালতেও মামলা হয়েছে। সম্প্রতি একটি মার্কিন আদালত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত করার আগের একটি নীতিকে বাতিল করেছে এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ কারণে অভিবাসন নীতিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসার আবেদনকারী অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় থাকেন। সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন হলে তাদের পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হতে পারে।
তবে আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অনুমান বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিসিয়াল তথ্য অনুসরণ করা। কারণ প্রতিটি দেশের কনস্যুলার কার্যক্রমের পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তাই আবেদনকারীদের জন্য সাক্ষাৎকারের সময়সূচি, প্রয়োজনীয় নথি এবং নতুন নিয়ম নিয়মিত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।