জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন গ্রেপ্তার প্রায় ৫০ হাজার, বেড়েছে ১৫ শতাংশ

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে প্রায় ৫০ হাজার গ্রেপ্তার, জুনের তুলনায় সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ বলে জানা গেছে।

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন গ্রেপ্তার প্রায় ৫০ হাজার, বেড়েছে ১৫ শতাংশ

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন গ্রেপ্তার প্রায় ৫০ হাজার, বেড়েছে ১৫ শতাংশ


জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা ৪৯ হাজার ৫৭১ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। জুন মাসে এই সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ২১ জন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে।


নতুন এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জুলাইয়ে এক মাসে সবচেয়ে বেশি অভিবাসন গ্রেপ্তার হয়েছে।


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ২৪১ জন। পাঁচ মাসের ব্যবধানে জুলাইয়ে তা বেড়ে প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির তুলনায় জুলাইয়ে গ্রেপ্তার বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ।


অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি, নির্ধারিত সাক্ষাতে হাজির হওয়া ব্যক্তিদের আটক এবং বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর ঘটনা বেড়েছে। স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের সঙ্গেও কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা বাড়ানো হয়েছে।


জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড ছিল না। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া অর্ধেকের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ বা আগের দণ্ডের রেকর্ড ছিল না।টেক্সাস ও ফ্লোরিডায় জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি অভিবাসন গ্রেপ্তার হয়েছে। এই দুই অঙ্গরাজ্যে মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


সেখানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সহযোগিতাও তুলনামূলকভাবে বেশি।অভিবাসন অভিযান জোরদার হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, তারা গ্রেপ্তার ও দেশ থেকে বহিষ্কারের আশঙ্কায় রয়েছেন।


অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই অভিযানের মূল লক্ষ্য। প্রশাসন আরও বলছে, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের শনাক্ত করাও এই কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


গ্রেপ্তারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। জুলাই মাসে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সরকারি তথ্যের বিশ্লেষণে জানা গেছে।


অভিবাসন গ্রেপ্তারের এই বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সমালোচকদের দাবি, অপরাধের রেকর্ড না থাকা ব্যক্তিরাও অভিযানের আওতায় পড়ছেন। অন্যদিকে প্রশাসনের সমর্থকদের বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।


জুলাইয়ের প্রায় ৫০ হাজার গ্রেপ্তারের তথ্য থেকে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রম বর্তমানে ব্যাপক আকার নিয়েছে। আগামী মাসগুলোতে গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কারের সংখ্যা আরও বাড়ে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর