কোমিসহ ট্রাম্পের টার্গেট করা ব্যক্তিদের তালিকা সামনে, রাজনৈতিক প্রতিশোধের অভিযোগে নতুন বিতর্ক
সাবেক এফবিআই পরিচালক কোমিসহ ট্রাম্পের টার্গেট করা ব্যক্তিদের তালিকা সামনে, রাজনৈতিক প্রতিশোধের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক তীব্র।
কোমিসহ ট্রাম্পের টার্গেট করা ব্যক্তিদের তালিকা সামনে, রাজনৈতিক প্রতিশোধের অভিযোগে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমির বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের কথিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বুধবার, ১৯ আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কোমির বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি রক্ষা করে আদালতে যুক্তি দিয়েছে। প্রসিকিউটররা বলছেন, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোমির প্রকাশ করা একটি ছবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বোঝা যেতে পারে। কোমির আইনজীবীরা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন।
কোমির মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধের অভিযোগকে আবারও সামনে এনেছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোমি ছাড়াও সাবেক নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের আওতায় এসেছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবশ্য এসব পদক্ষেপকে আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন।
কোমির বিরুদ্ধে বর্তমান মামলাটি তার ২০২৫ সালের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে ঘিরে। পোস্টটিতে সমুদ্রসৈকতে পাওয়া ঝিনুক দিয়ে ‘৮৬ ৪৭’ লেখা হয়েছিল। প্রসিকিউশন দাবি করছে, ‘৪৭’ দিয়ে ট্রাম্পের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হওয়াকে এবং ‘৮৬’ দিয়ে তাকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত বোঝানো হতে পারে। কোমি বলেছেন, তার কোনো সহিংস উদ্দেশ্য ছিল না।
এই মামলায় এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কোমির পোস্টটি সত্যিই প্রেসিডেন্টকে হুমকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল কি না এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানো সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য কি না।
মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ক্ষমতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকেরা এটিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইন ভঙ্গের অভিযোগ থাকলে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করেই বিচার হওয়া উচিত।