নিউইয়র্কে কথিত ভুয়া বিয়ের চক্র, ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নিউইয়র্কে এক দশকের আন্তর্জাতিক ভুয়া বিয়ে প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিদেশিদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নিউইয়র্কে কথিত ভুয়া বিয়ের চক্র, ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ককেন্দ্রিক একটি কথিত আন্তর্জাতিক ভুয়া বিয়ের চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই চক্রে এক হাজারের বেশি ভুয়া বিয়ের ব্যবস্থা করে বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা মূলত চীনা নাগরিকদের জন্য মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে ভুয়া বিয়ের ব্যবস্থা করতেন। এসব বিয়ের উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসনসংক্রান্ত নথির মাধ্যমে বৈধ অবস্থান ও গ্রিন কার্ড পাওয়া। তদন্তকারীদের অভিযোগ, চক্রটি নিউইয়র্ক থেকে পরিচালিত হলেও এর কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিস্তৃত ছিল।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, একটি ভুয়া বিয়ের জন্য বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ডলার পর্যন্ত নেওয়া হতো। অন্যদিকে, ভুয়া বিয়েতে অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিকদের কয়েক হাজার থেকে প্রায় ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হতো বলে প্রসিকিউটরদের অভিযোগ।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রতারণাটিকে সত্যিকারের বিয়ে হিসেবে উপস্থাপন করতে অভিযুক্তরা বিয়ের অনুষ্ঠান, ছবি ও অন্যান্য নথির ব্যবস্থা করতেন। কোথাও কোথাও রেস্তোরাঁয় বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করে বর-কনেকে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরানো এবং ছবি তোলার ব্যবস্থাও করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া দম্পতিদের আলাদা জীবনযাপনের শর্ত দিয়ে চুক্তি করানো হতো। বিদেশি নাগরিক গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থাও করা হতো বলে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন।
ফেডারেল কর্মকর্তাদের মতে, এই কথিত চক্র থেকে সংশ্লিষ্টরা কয়েক কোটি ডলার আয় করে থাকতে পারেন। মার্কিন অ্যাটর্নি জেমি ম্যাকডোনাল্ড এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় বিবাহ প্রতারণা মামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১২ আগস্ট ২০২৬ অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিবাহ প্রতারণা, অভিবাসনসংক্রান্ত নথি জালিয়াতি ও অবৈধভাবে বসবাসে সহায়তার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলাটি এখন ফেডারেল আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে।
তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্ত প্রত্যেকেই আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন, যতক্ষণ না আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।