কারোলিন লেভিট আগস্টের শেষে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন
কারোলিন লেভিট আগস্টের শেষে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন, পরিবারকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রশাসনে আসছে বড় পরিবর্তন।
কারোলিন লেভিট আগস্টের শেষে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট আগস্টের শেষে তাঁর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ১২ আগস্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেভিটের পদত্যাগের বিষয়টি জানান। লেভিটও পরে নিজ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।
ট্রাম্প জানান, লেভিট তাঁর ছোট সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে চান। প্রেসিডেন্ট তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করার কথা জানিয়ে লেভিটের কাজের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, লেভিট ভবিষ্যতেও তাঁর ঘনিষ্ঠ বহিরাগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন এবং রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব থাকবে।
লেভিট নিজেও পদ ছাড়ার কারণ হিসেবে মাতৃত্ব ও পারিবারিক দায়িত্বের কথা তুলে ধরেছেন। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর তিনি সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে হোয়াইট হাউসে ফিরেছিলেন। কিন্তু প্রেস সেক্রেটারির অত্যন্ত ব্যস্ত ও সময়সাপেক্ষ দায়িত্বের সঙ্গে দুই ছোট সন্তানের মা হিসেবে নিজের দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে বলে তিনি জানান।
কারোলিন লেভিট ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব নেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৭ বছর। এর মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই পদে দায়িত্ব নেওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে ইতিহাস গড়েন। বর্তমানে তাঁর বয়স ২৮ বছর।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট মেয়াদে লেভিট প্রশাসনের অন্যতম দৃশ্যমান মুখ হয়ে ওঠেন। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের নীতি ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিতেন। তাঁর যোগাযোগের ধরন ছিল অনেক সময় সরাসরি ও আক্রমণাত্মক, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক যোগাযোগের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
লেভিটের সময়ে হোয়াইট হাউসের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কেও কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। প্রশাসন ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি নতুন ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমকে ব্রিফিংয়ে আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কও তৈরি হয়।
তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু সামলাচ্ছে। ফলে নতুন প্রেস সেক্রেটারি নিয়োগ হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ কৌশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কোনো ব্যক্তির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
লেভিট আগস্টের শেষ দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর তিনি হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন না। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রচারণায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
কারোলিন লেভিটের বিদায়কে তাই শুধু একজন প্রেস সেক্রেটারির পদত্যাগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না; এটি ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। নতুন প্রেস সেক্রেটারি কে হবেন এবং তিনি লেভিটের আক্রমণাত্মক ও সরাসরি যোগাযোগের ধারা অব্যাহত রাখবেন কি না—তা এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।