যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খুঁজছেন? সরকারি সহায়তায় জীবনবৃত্তান্ত থেকে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খুঁজছেন? সরকারি কর্মসূচিতে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

PostImage

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খুঁজছেন? সরকারি সহায়তায় জীবনবৃত্তান্ত থেকে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ


যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য সরকারি ব্যবস্থায় চাকরি খোঁজা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি কর্মসূচির যোগ্যতা ও সুবিধা এক নয়। বয়স, আয়, কর্মসংস্থানের অবস্থা, বসবাসের রাজ্য এবং নির্দিষ্ট শ্রেণিভুক্তির ওপর যোগ্যতা নির্ভর করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের অধীন আমেরিকান জব সেন্টারগুলো চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন সহায়তা দেয়। এসব কেন্দ্রে পেশাগত পরামর্শ, চাকরির তথ্য, প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্পর্কে নির্দেশনা এবং চাকরি খোঁজার সহায়তা পাওয়া যায়। দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি আমেরিকান জব সেন্টার রয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীরা জীবনবৃত্তান্ত প্রস্তুত ও উন্নত করার ক্ষেত্রেও সরকারি সহায়তা পেতে পারেন। শ্রম বিভাগের ক্যারিয়ারওয়ানস্টপে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, চাকরি খোঁজা, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশিকা রয়েছে।

দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও রয়েছে। রাজ্যভেদে বিনামূল্যে বা সহায়তাপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে পারে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন পেশাগত দক্ষতা অর্জন বা বর্তমান দক্ষতা উন্নত করে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করার সুযোগ রয়েছে।

তরুণদের জন্যও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে। শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী কম আয়ের তরুণরা যোগ্য হলে জব কর্পসের মাধ্যমে বিনামূল্যে আবাসিক শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে পারেন।

প্রবীণ কর্মী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সাবেক সেনাসদস্য এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্যও আলাদা কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ সহায়তা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সিনিয়র কমিউনিটি সার্ভিস এমপ্লয়মেন্ট প্রোগ্রাম প্রবীণ কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়।

অভিবাসী চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই সব সরকারি চাকরি বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্যতা তৈরি হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিজস্ব যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই আবেদন করার আগে কর্মসূচির সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

চাকরিপ্রার্থীরা প্রথমে নিজেদের এলাকার আমেরিকান জব সেন্টারে যোগাযোগ করে কী ধরনের চাকরি, প্রশিক্ষণ বা ক্যারিয়ার সহায়তা পাওয়া যেতে পারে তা জানতে পারেন। শ্রম বিভাগও চাকরি ও প্রশিক্ষণ খোঁজার জন্য স্থানীয় আমেরিকান জব সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়।

সরকারি কর্মসূচির তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে ইউএসএগভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ওয়েবসাইটকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি প্রশিক্ষণ বা চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে আগাম অর্থ চাইলে তথ্য যাচাই না করে অর্থ বা ব্যক্তিগত নথি দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য তাই প্রথম ধাপ হতে পারে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা মূল্যায়ন, একটি মানসম্মত জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, স্থানীয় চাকরির বাজার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে আবেদন করা। তবে কোন সুবিধা পাওয়া যাবে তা প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর