যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ভাড়া ও বাড়ি কেনার খরচ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বাড়িভাড়া কমলেও বাড়ি কেনার ব্যয় নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ এখনো কাটেনি।

PostImage

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ভাড়া ও বাড়ি কেনার খরচ নিয়ে নতুন উদ্বেগ


যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে শহরভেদে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও অনেক পরিবারের জন্য ভাড়া দেওয়া কিংবা বাড়ি কেনা—দুই ক্ষেত্রেই ব্যয়ের চাপ এখনো বড় বিষয় হয়ে আছে। ২০২৬ সালের বিভিন্ন আবাসন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কিছু শহরে ভাড়া কমলেও বাড়ি কেনার মাসিক ব্যয় এখনো তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। 


বড় ৫০টি মহানগর এলাকায় ২০২৬ সালের মার্চে দুই কক্ষ পর্যন্ত বাসার গড় চাওয়া ভাড়া ছিল মাসে ১ হাজার ৬৬৯ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই ভাড়া ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমলেও মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এখনো ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।


অন্যদিকে, একই সময়ে এসব বড় শহরে প্রাথমিক পর্যায়ের একটি বাড়ি কেনার মাসিক ব্যয় গড়ে ভাড়ার চেয়ে ৯২০ ডলার বেশি ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, ৫০টি বড় মহানগরের প্রতিটিতেই ওই সময় বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া নেওয়া তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল ছিল।


তবে সব শহরের পরিস্থিতি এক নয়। অস্টিন, সিয়াটল, ফিনিক্স, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ডালাসের মতো বড় মহানগরে বাড়ি কেনা ও ভাড়ার মধ্যে ব্যয়ের ব্যবধান উল্লেখযোগ্য ছিল। লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রাথমিক পর্যায়ের বাড়ি কেনার মাসিক ব্যয় ভাড়ার চেয়ে ২ হাজার ২২৬ ডলার বেশি ছিল। 


অন্যদিকে, কিছু শহরে আবাসন পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। ২০২৬ সালের একটি বিশ্লেষণে ডেট্রয়েট, অ্যাক্রন ও গ্যারিকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক সাশ্রয়ী শহরগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়ের তুলনায় আবাসন ব্যয়ের চাপ বড় শহরগুলোর তুলনায় কম। 


বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের পূর্বাভাস রয়েছে। আবাসন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান জিলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বৃহৎ মহানগরের মধ্যে ২০টিতে সাধারণ একটি বাড়ির মাসিক ঋণ পরিশোধ মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হতে পারে। 


তবে উচ্চ বাড়ির মূল্য, ঋণের সুদ, সম্পত্তি কর, বীমা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মিলিয়ে বাড়ির মালিক হওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো অনেক পরিবারের জন্য কঠিন। বিশেষ করে তরুণ ও প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া পরিবারগুলোকে আয় ও আবাসন ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে।


অভিবাসী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন শহরে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু ভাড়ার পরিমাণ নয়, যাতায়াত, চাকরির সুযোগ, কর, বীমা এবং ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার সম্ভাব্য খরচও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ভাড়ার চাপ কিছুটা কমার লক্ষণ দেখা গেলেও বাড়ি কেনার ব্যয় এখনো অনেক শহরে পরিবারের সামর্থ্যের তুলনায় বেশি। ফলে ২০২৬ সালেও সাশ্রয়ী আবাসন কমিউনিটি পর্যায়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর