হবু স্ত্রীকে আইসিই আটক করায় ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত টেক্সাসের ব্যবসায়ী

হবু স্ত্রীকে আইসিই আটক করায় ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনুতপ্ত টেক্সাসের ব্যবসায়ী, বদলে গেল অভিবাসন নীতি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি

PostImage

হবু স্ত্রীকে আইসিই আটক করায় ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত টেক্সাসের ব্যবসায়ী


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন টেক্সাসের ৭৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী জন গ্যানন। তবে হবু স্ত্রী ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন তিনি।


গ্যাননের ৪৫ বছর বয়সী হবু স্ত্রী ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েসকে গত ২৪ জুলাই হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দর থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসিই। তারা লাস ভেগাসে একটি আসবাবপত্র শিল্পের সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।

গ্যানন জানান, বিমানবন্দরে ইয়াসমিনকে আটক করার বিষয়টি তাদের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। বিয়ের পর একসঙ্গে সংসার গড়ার পরিকল্পনা থাকলেও আটকের ঘটনায় সেই ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ইয়াসমিন ভেনেজুয়েলায় জন্মগ্রহণ করলেও তিনি স্পেনের নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর তিনি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তার অনুমোদিত থাকার সময়সীমা শেষ হয় ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি।

ইয়াসমিনের আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। পাশাপাশি তার কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র এবং টেক্সাসের ড্রাইভিং লাইসেন্সও ছিল।

তবে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বলছে, ইমিগ্রেশন আবেদন বিচারাধীন থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া নয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, অনুমোদিত সময়ের পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার কারণেই ইয়াসমিনকে আটক করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, ইয়াসমিনের ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো ইমিগ্রেশন আদালতে শুনানি হবে। সেখানে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পাবেন।

হবু স্ত্রীকে আটকের পর ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন গ্যানন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন আর একইভাবে নিতেন না।

আজীবন রিপাবলিকান হিসেবে পরিচিত এই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, কঠোর অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তার মতে, অপরাধের অভিযোগ নেই—এমন মানুষদের আটকের ফলে পরিবার ও কর্মজীবন দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গ্যাননের ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় এক হাজারের বেশি বিলবোর্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মেক্সিকোতেও তার হোটেল ও রেস্তোরাঁসহ ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হবু স্ত্রীর আটকের ঘটনায় ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর গ্যাননের রাজনৈতিক অবস্থানেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে তিনি ভোট দিয়েছিলেন, সেই প্রশাসনের অভিবাসন নীতির প্রভাব এবার তার নিজের পরিবারেই পড়েছে।

ইয়াসমিন বর্তমানে টেক্সাসে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রয়েছেন। তার পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে ইমিগ্রেশন আদালতের শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। অন্যদিকে গ্যানন বলছেন, এই অভিজ্ঞতা তাকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর