৫ বিদেশি কূটনৈতিক মিশন বন্ধের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক কার্যক্রম আরও কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাঁচটি বিদেশি কূটনৈতিক মিশন বন্ধের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
৫ বিদেশি কূটনৈতিক মিশন বন্ধের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে পাঁচটি বিদেশি কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্ধ হতে পারে গ্রানাডার সেন্ট জর্জেস, জাপানের নাগোয়া, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, ক্যামেরুনের ডুয়ালা এবং কানাডার উইনিপেগে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশন।
এর মধ্যে সেন্ট জর্জেস একটি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস, নাগোয়া, মেদান ও উইনিপেগ কনস্যুলেট এবং ডুয়ালা একটি দূতাবাসের শাখা কার্যালয়। এসব কেন্দ্র সাধারণত রাজধানীর বাইরে মার্কিন নাগরিকদের সেবা প্রদান, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (OMB) দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশে পরিচালিত ছোট আকারের কিছু মিশন বন্ধ করে ব্যয় কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, কিছু মিশনের কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় সেগুলো পরিচালনায় ব্যয় তুলনামূলক বেশি।
তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এবং সাবেক কূটনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিদেশে মার্কিন কূটনৈতিক উপস্থিতি কমে গেলে বৈশ্বিক প্রভাব দুর্বল হতে পারে এবং সেই সুযোগে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো নিজেদের প্রভাব আরও বিস্তার করতে পারে।
গত বছর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে কয়েক ডজন দপ্তর পুনর্গঠন এবং শত শত কর্মী ছাঁটাই করা হলেও কোনো বিদেশি মিশন বন্ধ করা হয়নি।
এদিকে পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে সরাসরি মিশন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতিকে আরও দক্ষ, কার্যকর ও কৌশলগতভাবে পরিচালনা করার ওপর তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি কংগ্রেসকে অবহিত করার আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কূটনৈতিক কৌশলে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করবে।