রোহিঙ্গা সংকটে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা যথেষ্ট নয়; বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও উন্নয়ন অংশীদারদেরও অবদান বাড়াতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকটে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) কক্সবাজারের উখিয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মানবিক দায়িত্ব পালন করে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে মোকাবিলা করা কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বড় ভূমিকা প্রয়োজন।
সার্জিও গরের সঙ্গে সফরে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল। তারা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) পরিচালিত খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য মানবিক উদ্যোগ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
প্রতিনিধিদল ক্যাম্প-৪, সম্প্রসারিত ক্যাম্প-৮ পশ্চিম এবং ক্যাম্প-৬ পরিদর্শন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে ধারণা নেন।
পরিদর্শন শেষে সার্জিও গর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদার, দাতা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও আরও বেশি আর্থিক ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সফরকালে মার্কিন প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে চলমান মানবিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবিকায়ন এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য চলমান সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় বিপুল অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় খাদ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা কার্যক্রম ব্যাপক চাপে পড়েছে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত না হলে অপুষ্টি, শিশুশ্রম, মানবপাচার, বাল্যবিবাহ এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে এখনো নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা সীমিত। ফলে বাংলাদেশের ওপর চাপ কমাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আর্থিক, মানবিক এবং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো জরুরি।