ট্রাম্প বললেন, দ্রুত চুক্তির শর্তে ইরানের ওপর নতুন হামলা স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি চুক্তি হলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নতুন সামরিক হামলা বাতিল করবেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে, সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে উন্মুক্ত করতে হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটাতে হবে

ট্রাম্প বললেন, দ্রুত চুক্তির শর্তে ইরানের ওপর নতুন হামলা স্থগিত

ট্রাম্প বললেন, দ্রুত চুক্তির শর্তে ইরানের ওপর নতুন হামলা স্থগিত


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি চুক্তি হলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নতুন সামরিক হামলা বাতিল করবেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে, সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে উন্মুক্ত করতে হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটাতে হবে।

শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র "ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত" ছিল। তবে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি আপাতত হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন, কারণ তাঁর দাবি অনুযায়ী, "একটি সম্ভাব্য চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে।"

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইসরায়েলও যৌথভাবে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েল সরকার এখনো প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চিতকরণ দেয়নি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা চালালে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং এর পরিণতির দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এখন ষষ্ঠ মাসে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক উপদেষ্টাদের সতর্কবার্তার পর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করে। উপদেষ্টারা সতর্ক করেছিলেন, বড় আকারের অভিযান চালালে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা, উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবও হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।

তবে শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, "আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব। একসময় তারা বলবে, 'আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।'"

উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। শনিবার জর্ডান, ইরাক ও ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অঞ্চল ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে বা পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দ্রুত চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।

দুইজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা আরও জোরদার করলে ইরান তার মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা বাড়ানো এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে যুদ্ধের মূল্য ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

সপ্তাহের শুরুতে সুয়েজ খালের কাছে মিসরের একটি বন্দরে ড্রোন হামলায় একটি মার্কিন মালিকানাধীন জাহাজসহ দুটি গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন সেনা অবস্থানরত একটি ঘাঁটির দিকেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

এদিকে বুধবার সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায়। সৌদি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব মিলিশিয়া সোমবার সৌদি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। তবে সৌদি সরকার জানিয়েছে, এই হামলা ছিল নির্দিষ্ট আক্রমণের জবাব, বৃহত্তর ইরানবিরোধী যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ নয়।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর