জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সময়ে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, কূটনীতির পথ এখনো খোলা থাকলেও হামলা অব্যাহত থাকলে ইরানকে এর মূল্য দিতে হবে।

জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র

জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র


মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে এর জবাবে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ-কে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আলোচনা “উন্মাদনার শামিল” এবং এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে তেহরানের প্রস্তুত করা বিস্তৃত সামরিক পরিকল্পনা রয়েছে।

তার দাবি, এসব পরিকল্পনার আওতায় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এমন হামলা চালানোর সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা—দুই-ই রয়েছে।

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে রয়েছেন। তবে ইরান যদি মার্কিন বাহিনী, মিত্র দেশ বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে “তেহরানকে এর মূল্য দিতে হবে।”

হোয়াইট হাউসের এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ কার্যকর করতে তারা ৩০টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে, দুটি জাহাজে অভিযান চালিয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজ অচল করে দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩০টি মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, গাজায় ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে হামাস একটি কাঠামোগত প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান না হওয়ায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর