মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে যুক্তরাজ্য

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, সব ক্ষেপণাস্ত্রই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। নতুন এই উত্তেজনায় আবারও মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে যুক্তরাজ্য

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে যুক্তরাজ্য


মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)।

বুধবার এক বিবৃতিতে CENTCOM জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) আকস্মিক হামলার উদ্দেশ্যে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলেও সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলেও জানানো হয়।

জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির আকাশসীমায় পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে IRGC দাবি করেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

এক বিবৃতিতে IRGC জানায়, “ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি এবং মার্কিন বাহিনীর অবৈধ পদক্ষেপ চলতে থাকলে প্রতিরোধও অব্যাহত থাকবে।”

এই হামলা এমন সময় ঘটল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বোমা হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা অচল হয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।

এদিকে হামলার সময় হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটনকে বার্তা দিতে চেয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যেকোনো আলোচনায় ইরানকে উপেক্ষা করা যাবে না।

একই সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও উত্তেজনা বেড়েছে। IRGC দাবি করেছে, তারা তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার থামিয়ে দিয়েছে, কারণ সেগুলো তাদের সতর্কতা উপেক্ষা করে চলাচল করছিল। তবে এই দাবির স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

এদিকে ওমান হরমুজ প্রণালিতে যৌথভাবে নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণের একটি প্রস্তাব দিলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের দাবি, নিজেদের জলসীমায় নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার তাদের রয়েছে।

সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলারের ওপরে ওঠে। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮৮ ডলারের বেশি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অস্থিতিশীল করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর