জনসন অ্যান্ড জনসন ট্যালকম পাউডার ক্যানসার মামলায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় রাজি
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান Johnson & Johnson তাদের বেবি পাউডারসহ ট্যালকভিত্তিক পণ্য ব্যবহারের কারণে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হয়েছে—এমন অভিযোগে দায়ের হওয়া হাজারো মামলার নিষ্পত্তিতে আনুমানিক ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সমঝোতা প্রায় এক দশক ধরে চলা বহুল আলোচিত আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটাতে পারে
জনসন অ্যান্ড জনসন ট্যালকম পাউডার ক্যানসার মামলায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় রাজি
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান Johnson & Johnson তাদের বেবি পাউডারসহ ট্যালকভিত্তিক পণ্য ব্যবহারের কারণে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হয়েছে—এমন অভিযোগে দায়ের হওয়া হাজারো মামলার নিষ্পত্তিতে আনুমানিক ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সমঝোতা প্রায় এক দশক ধরে চলা বহুল আলোচিত আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটাতে পারে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, এই সমঝোতার আওতায় প্রায় ৭৬ হাজার দাবি (ক্লেইম) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে নিউ জার্সির ফেডারেল আদালতে একীভূত হওয়া মামলাগুলো এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আদালতে চলমান সংশ্লিষ্ট মামলাও রয়েছে। এগুলোই কোম্পানির বিরুদ্ধে থাকা প্রায় সব অবশিষ্ট ট্যালক-সংক্রান্ত দাবি।
এর আগে ট্যালক পণ্যে অ্যাসবেস্টস থাকার কারণে মেসোথেলিওমা (Mesothelioma) হয়েছে—এমন অভিযোগে দায়ের হওয়া অধিকাংশ মামলারও নিষ্পত্তি করেছিল জনসন অ্যান্ড জনসন।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা সোমবার এই চুক্তিকে দীর্ঘ ১০ বছরের আইনি লড়াইয়ের একটি ইতিবাচক সমাধান বলে অভিহিত করেন। তবে সমঝোতাটি কার্যকর হতে হলে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতে থাকা ডিম্বাশয়ের ক্যানসার-সংক্রান্ত দাবিদারদের অন্তত ৯৫ শতাংশের সম্মতি প্রয়োজন।
জনসন অ্যান্ড জনসনের লিটিগেশন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস বলেন, কোম্পানির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো "ভিত্তিহীন"। তবে দীর্ঘদিনের আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা-যন্ত্র উন্নয়নের মূল কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানটি সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে।
কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হবে এবং বাকি অর্থ ২০২৮ সালে দেওয়া হবে। তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়লে মোট পরিশোধের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
সমঝোতা আলোচনায় যুক্ত আইনজীবী ক্রিস সিগার বলেন, শেষ পর্যন্ত জনসন অ্যান্ড জনসনকে ৭ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে। তিনি জানান, এই চুক্তিতে যোগ্য দাবিদারদের ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করা হলেও কোম্পানির মোট পরিশোধের ওপর কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আদালতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে এক ফেডারেল বিচারক রায়ে প্রশ্ন তোলেন, বাদীপক্ষ পৃথকভাবে প্রমাণ করতে পারবে কি না যে ট্যালকই তাদের ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের সরাসরি কারণ ছিল।
জনসন অ্যান্ড জনসন দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের ট্যালকভিত্তিক পণ্য নিরাপদ ছিল এবং এতে অ্যাসবেস্টস ছিল না। তবে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে ট্যালকভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে কর্নস্টার্চভিত্তিক পণ্য বাজারে আনে।
২০২৫ সালের মার্চে, একাধিক দেউলিয়া ঘোষণার কৌশল (যা "টেক্সাস টু-স্টেপ" নামে পরিচিত) আদালতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিন বছরেরও বেশি সময় স্থগিত থাকা মামলাগুলোর বিচার আবার শুরু হয়। কোম্পানির প্রতিটি দেউলিয়া আবেদন শেষ পর্যন্ত আদালত খারিজ করে দেয়।
নতুন এই সমঝোতা শুধু বিদ্যমান দাবিগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভবিষ্যতে নতুন করে দায়ের হওয়া মামলাগুলো এর আওতায় পড়বে না। তবে এই ব্যবস্থার ফলে বর্তমান দাবিদাররা আগের প্রস্তাবিত দেউলিয়া-ভিত্তিক পরিকল্পনার তুলনায় বেশি অর্থ পাবেন এবং ১৮ মাসের মধ্যেই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ সম্পন্ন হবে, যেখানে আগের পরিকল্পনায় অর্থ পরিশোধ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলার কথা ছিল।
সূত্র : রয়টার্স