‘ইরান চুক্তিতে আন্তরিক নয়’—রুবিও
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ইরান এখনো কোনো বাস্তবসম্মত চুক্তিতে পৌঁছাতে আন্তরিক নয়। একই সময়ে টানা ১২তম রাতেও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগর এবং পারমাণবিক ইস্যুকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
‘ইরান চুক্তিতে আন্তরিক নয়’—রুবিও
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান (ASEAN) সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরান এখনো কোনো সমঝোতা চুক্তির ব্যাপারে “স্পষ্টভাবে আন্তরিক নয়”।
তিনি আরও দাবি করেন, “ইরান একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে। তাদের বাস্তবতা বুঝতে হবে। তারা যা করছে, তার জন্য তাদের খুব বড় মূল্য দিতে হবে।” রুবিওর এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২তম রাতেও ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
ইরানি সূত্রের দাবি, ইরাক সীমান্তবর্তী শালামচেহ (Shalamcheh) সীমান্ত ক্রসিংয়ে মার্কিন হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লেগেছে। এদিকে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনী কোনো জাহাজে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাবে।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তেহরানের প্রতিরক্ষা নীতি হলো “চোখের বদলে চোখ”।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব একটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করেছে। এর ফলে সৌদি আরব ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক অভিযান, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।