নেতানিয়াহুকে সিরিয়া ও লেবানন থেকে সেনা সরাতে বলেছেন ট্রাম্প

অ্যাক্সিওস (Axios)-এর এক প্রতিবেদনে, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবার টেলিফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সিরিয়া থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পুনর্মোতায়েন (redeploy) শুরু করতে এবং একই ধরনের পদক্ষেপ লেবাননেও নিতে আহ্বান জানিয়েছেন

নেতানিয়াহুকে সিরিয়া ও লেবানন থেকে সেনা সরাতে বলেছেন ট্রাম্প

নেতানিয়াহুকে সিরিয়া ও লেবানন থেকে সেনা সরাতে বলেছেন ট্রাম্প


অ্যাক্সিওস (Axios)-এর এক প্রতিবেদনে, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবার টেলিফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সিরিয়া থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পুনর্মোতায়েন (redeploy) শুরু করতে এবং একই ধরনের পদক্ষেপ লেবাননেও নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

বর্তমানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) দক্ষিণ লেবানন ও দক্ষিণ সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে রেখেছে। ইসরায়েলি সরকারের দাবি, ৭ অক্টোবরের মতো আরেকটি হামলা ঠেকাতে এই সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন।

তবে নেতানিয়াহুর সরকারের কট্টর ডানপন্থী সদস্যরা এসব এলাকার ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চান। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনের পক্ষেও মত দিচ্ছেন। এদিকে, মাত্র তিন মাস পর গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া নেতানিয়াহু সেনা প্রত্যাহারে আগ্রহী নাও হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছেন যে সিরিয়ার ভূখণ্ডে আইডিএফের উপস্থিতি উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং তা সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, “ওরা আপনাদের সেখানে চায় না। আপনাদের বাহিনী পুনর্মোতায়েন করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, একই বিষয় লেবাননের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

এই ফোনালাপের একদিন আগে ট্রাম্প আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অ্যাক্সিওসকে জানায়, “প্রধানমন্ত্রী তার পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা অঞ্চল (security zones) বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।”

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীরা রোমে ইসরায়েলি ও লেবানিজ কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে কয়েক সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

ওই চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের দখলে থাকা দুটি “পাইলট জোন” থেকে সেনা প্রত্যাহার করে সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনীকে মোতায়েনের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে এখনো সেই প্রত্যাহার কার্যকর হয়নি। লেবানন সরকার সেনা প্রত্যাহারের জন্য একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি এবং ভবিষ্যতে আরও সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও, অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের তথ্য অস্বীকারও করেনি।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং ইসরায়েল সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো ইসরায়েলের এত বড় বন্ধু এবং শান্তির পক্ষে এত দৃঢ় অবস্থান নেওয়া আর কেউ ছিলেন না।”

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর