ইরানি ফ্লাইটকে 'অবৈধ' আখ্যা, হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা ইয়েমেনের

ইরান থেকে ইয়েমেনে আসা-যাওয়া করা বিমান দেশটির সার্বভৌমত্বের অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি-সমর্থিত ও জাতিসংঘ-স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আল-আলিমি

ইরানি ফ্লাইটকে 'অবৈধ' আখ্যা, হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা ইয়েমেনের

ইরানি ফ্লাইটকে 'অবৈধ' আখ্যা, হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা ইয়েমেনের


ইরান থেকে ইয়েমেনে আসা-যাওয়া করা বিমান দেশটির সার্বভৌমত্বের অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি-সমর্থিত ও জাতিসংঘ-স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আল-আলিমি।

তিনি এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, এসব বিমানে হুথি আন্দোলনের জন্য সামরিক সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ আনা হচ্ছিল। তাঁর মতে, হুথিরা এখন আর শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়; তারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

এই মন্তব্য আসে এমন এক ঘটনার পর, যখন ইয়েমেন সরকার সৌদি আরবের সমর্থনে হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালায়। হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরান থেকে আসা একটি বিমানকে বাধা দেওয়া, যাতে ইরানে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া একটি হুথি প্রতিনিধিদল ফিরছিল।

সানায় অবতরণ করতে না পেরে বিমানটি শেষ পর্যন্ত হুথি-নিয়ন্ত্রিত লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর হোদাইদাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় হুথিরা সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, ফলে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।

এ ঘটনার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে উভয় পক্ষকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানানো হয়।

অন্যদিকে, হুথি প্রতিনিধিদলের প্রধান বলেন, "নিজেদের, মাতৃভূমি এবং জনগণকে রক্ষা করা ধর্মীয়, জাতীয়, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। এটি ইসলামী আইন ও আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্বীকৃত বৈধ অধিকার। প্রকৃত আগ্রাসীই প্রকৃত অপরাধী।"

দীর্ঘদিনের সংঘাত

২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। এতে জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকার দক্ষিণাঞ্চলের এডেনে সরে যেতে বাধ্য হয় এবং সৌদি আরব তাদের সমর্থন দেয়।

আল-আলিমি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। এর অন্যতম কারণ তাদের প্রধান সমর্থক ইরানের শক্তি হ্রাস পাওয়া।

তিনি বলেন, "এখন বাস্তবসম্মতভাবে হুথিদের অভ্যুত্থান শেষ করে রাষ্ট্র ও তার প্রতিষ্ঠান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এর মাধ্যমে অঞ্চল ও বিশ্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি রক্ষা করা যাবে।"

তার অভিযোগ, আলী খামেনির জানাজাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইরান হুথিদের কাছে সামরিক সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ পাঠানোর চেষ্টা করেছে।

শান্তির আহ্বান, তবে যুদ্ধের প্রস্তুতিও

আল-আলিমি বলেন, সরকার বহুবার হুথিদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কোনো ফল আসেনি।

তার ভাষায়, "আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শান্তির পথ খোলা রাখব। তবে হুথিরা যদি যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, তাহলে আমরা প্রস্তুত।"

তিনি আরও বলেন, যেকোনো সমঝোতার ভিত্তি হতে হবে—রাষ্ট্রের হাতে অস্ত্রের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধ সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর

আল-আলিমির দাবি, হুথিদের হামলায় ইয়েমেনের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সরকারের রাজস্ব কমে গেছে এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, "সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা না থাকলে সরকার সরকারি কর্মচারীদের বেতনই দিতে পারত না।"

তেলের অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও ইয়েমেনে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি

আল-আলিমি দাবি করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC) স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের মধ্যে আগের তুলনায় বেশি ঐক্য তৈরি হয়েছে।

তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। তাঁর মতে, সৌদি আরব মানবিক, অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রেই ইয়েমেনকে সহায়তা করে আসছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর