হরমুজে ইরানকে চাপে ফেলতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র? বাস্তবতা কী বলছে

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। একের পর এক সামরিক হামলা ও পাল্টা দাবির মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে কি সত্যিই কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র, নাকি ভৌগোলিক বাস্তবতা এখনো ইরানের পক্ষেই রয়েছে?

হরমুজে ইরানকে চাপে ফেলতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র? বাস্তবতা কী বলছে

হরমুজে ইরানকে চাপে ফেলতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র? বাস্তবতা কী বলছে


মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী। যুক্তরাষ্ট্র একাধিক দফায় ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করলেও, কৌশলগতভাবে হরমুজ অঞ্চলে এখনো নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি বলে মনে করছেন অনেক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক।

এর প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালীর ভৌগোলিক অবস্থান। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ প্রতিদিন এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে অতিক্রম করে। প্রণালীর উত্তর উপকূল ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় দেশটি উপকূলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, দ্রুতগতির নৌযান এবং অন্যান্য অসমমিত সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে এ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নৌবাহিনী ও বিমান শক্তি থাকলেও, হরমুজ প্রণালীতে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি জটিল সামরিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। কারণ প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা।

এদিকে ইরান দাবি করছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ বলছে, সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। উভয় পক্ষের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হলেও, হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত রাখা বা ইরানের প্রভাব পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা এখনো সম্ভব হয়নি। কারণ এই অঞ্চলে সামরিক শক্তির পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থান, জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক রাজনীতি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষই সহজে নিরঙ্কুশ কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পারেনি। বরং দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা বিশ্ববাজার, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর