রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নিহত অন্তত ১২
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সোমবার ভোরে রাশিয়া দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ হামলা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নিহত অন্তত ১২
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সোমবার ভোরে রাশিয়া দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ হামলা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার ছোড়া সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে ইউক্রেনের আরও বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন। চলতি সপ্তাহে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়টি আবারও তুলে ধরতে পারেন।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই জেলেনস্কি সতর্ক করেছিলেন যে রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দুটি আবাসিক বহুতল ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর মাত্র কয়েক দিন আগে, গত বৃহস্পতিবার, কিয়েভে আরেকটি রুশ হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছিলেন। চলতি বছরে রাজধানীতে সেটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক দূরপাল্লার হামলার জবাব হিসেবেই এই ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের ওই হামলাগুলো রাশিয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ বাড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন প্রযুক্তির উন্নতি দেশটিকে কিছুটা কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে বলে বিশ্লেষক ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা মনে করছেন। তাদের মতে, সম্মুখসারির পেছনের রুশ সরবরাহ পথগুলোতে ইউক্রেনের হামলার ফলে রুশ সেনাবাহিনীর অগ্রগতির গতি কমেছে এবং যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে।
তবে বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইউক্রেন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এমনিতেই সীমিত সংখ্যায় উৎপাদিত এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি এখন সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে ইউক্রেনকে।