হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারে তৎপর ইরান, খামেনির শেষকৃত্য ঘিরেও কূটনৈতিক বার্তা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্য চলাকালেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব আরও শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ নিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সময়ে শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে প্রতীকী কূটনৈতিক বার্তাও দিয়েছে তেহরান
হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারে তৎপর ইরান, খামেনির শেষকৃত্য ঘিরেও কূটনৈতিক বার্তা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্য চলাকালেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব আরও শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ নিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সময়ে শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে প্রতীকী কূটনৈতিক বার্তাও দিয়েছে তেহরান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বহু জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ ব্যবহার শুরু করেছিল। এর ফলে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন উত্তরাঞ্চলীয় রুটের গুরুত্ব কমে আসে। তবে গত শনিবার আইআরজিসির সরাসরি সতর্কবার্তার পর অন্তত আটটি জাহাজ পথ পরিবর্তন করে ফিরে যায়। পরদিনও প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও কমে আসে। একই সময়ে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হোদেইদাহ উপকূলের কাছে একটি জাহাজে অজ্ঞাত সশস্ত্র হামলার ঘটনাও তদন্ত করছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
সামুদ্রিক নজরদারি প্রতিষ্ঠান মেরিন ট্রাফিক জানিয়েছে, ২ জুলাই হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৩৮টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। একই সঙ্গে ইরানি পতাকাবাহী জাহাজের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং অনেক জাহাজ ইরান-নিয়ন্ত্রিত বা পরিচয় গোপন রাখা করিডোর ব্যবহার করছে।
এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথে পাতা মাইন অপসারণে যৌথ নৌবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগকে অযৌক্তিক ও অন্যায় হস্তক্ষেপ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামও কিছুটা কমেছে। একসময় ব্যারেলপ্রতি ১২৫ ডলারে পৌঁছানো অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে প্রায় ৭৫ ডলারে নেমে এসেছে। এতে পশ্চিমা দেশগুলোর মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও রয়ে গেছে।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, তেহরানকে প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে এবং ৬০ দিন পর্যন্ত কোনো টোল আরোপ না করার কথা ছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা বাস্তবে কঠোরভাবে কার্যকর হচ্ছে না; বরং উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতির সময় নিজেদের সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।
এদিকে ওমান, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ওমান নিরাপত্তা, নৌ-নির্দেশনা ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো সেবার জন্য ঐচ্ছিক ফি চালুর একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যা কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সমর্থনও পেয়েছে।
অন্যদিকে তেহরানে খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ইরান প্রতীকীভাবে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত পাঠ করে। সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের সামনে বদরের যুদ্ধসংক্রান্ত আয়াত পাঠ করে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করলে তার পরিণতির ইঙ্গিত দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কাতারের জন্য ক্ষমা ও পথনির্দেশনার আয়াত, তুরস্কের জন্য সংগ্রামে অংশগ্রহণের গুরুত্ব এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর জন্য প্রশংসাসূচক আয়াত পাঠ করা হয়। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনো শোক প্রতিনিধি দল পাঠায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, খামেনির শেষকৃত্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা পুনরায় শুরু হবে না। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান