আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীর সূচনায় ট্রাম্পের ভাষণ: জাতীয় গৌরবের পাশাপাশি তীব্র রাজনৈতিক বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের সূচনায় দেওয়া ভাষণে প্রথমে আমেরিকার ব্যতিক্রমী সাফল্য ও জাতীয় গৌরবের কথা তুলে ধরেন। তবে পরে তিনি ভাষণকে তীব্র রাজনৈতিক দিকে নিয়ে যান এবং কমিউনিজমকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন

আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীর সূচনায় ট্রাম্পের ভাষণ: জাতীয় গৌরবের পাশাপাশি তীব্র রাজনৈতিক বার্তা

আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীর সূচনায় ট্রাম্পের ভাষণ: জাতীয় গৌরবের পাশাপাশি তীব্র রাজনৈতিক বার্তা


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের সূচনায় দেওয়া ভাষণে প্রথমে আমেরিকার ব্যতিক্রমী সাফল্য ও জাতীয় গৌরবের কথা তুলে ধরেন। তবে পরে তিনি ভাষণকে তীব্র রাজনৈতিক দিকে নিয়ে যান এবং কমিউনিজমকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

দক্ষিণ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, "কমিউনিজম আমেরিকার স্বাধীনতার জন্য একটি প্রাণঘাতী হুমকি। এটি আমাদের দেশের জন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, পার্ল হারবার কিংবা এমনকি ৯/১১-এর চেয়েও বড় হুমকি।"

সাম্প্রতিক কয়েকটি ভাষণেও ট্রাম্প একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তবে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত মাউন্ট রাশমোরে এমন রাজনৈতিক ভাষণ দেওয়ায় তা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। অতীতে জেরাল্ড ফোর্ড ও রোনাল্ড রিগ্যান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাধারণত ঐক্যবদ্ধ ও অরাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছিলেন।

সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য ১৯৫০-এর দশকের 'রেড স্কেয়ার' যুগের স্মৃতি উসকে দেয়, যখন যুক্তরাষ্ট্রে কথিত কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিপীড়ন ও কালো তালিকাভুক্তির ঘটনা ঘটেছিল।

এদিকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি, যিনি নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন, আলাদা এক অনুষ্ঠানে বলেন, "আমেরিকা বৈপরীত্যে ভরা একটি দেশ, যা প্রতিদিন নিজেকে আরও পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করে।"

তীব্র গরমের মধ্যেও উদযাপন

স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন এবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নাগরিকদের পর্যাপ্ত পানি পান এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফিলাডেলফিয়া স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রা বাতিল করেছে।

ওয়াশিংটনের গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার দুপুরে সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে বিকেলে পুনরায় চালু করা হয়।

ক্যাপিটল ফোর্থ কনসার্ট কিছুটা বিলম্বে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার ওয়াশিংটনে নির্ধারিত আরেকটি প্যারেডও বাতিল করা হয়েছে।

জাতীয় উৎসবেও রাজনৈতিক বিভাজন

নিউইয়র্কে দেওয়া ভাষণে মেয়র মামদানি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের সমালোচনার ইঙ্গিত ছিল।

তিনি বলেন, "প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের বলা হয়েছে, পৃথিবী যখন মানুষ পাঠায়, তখন তারা তাদের সেরা মানুষদের পাঠায় না। কিন্তু আমাদের জাতির প্রতিষ্ঠার আদর্শ এতটাই শক্তিশালী যে, তা যেকোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনকে টিকতে দেবে না—যদি আমরা সেই আদর্শকে ধারণ করি।"

এদিকে হোয়াইট হাউস-সমর্থিত ফ্রিডম ২৫০ এবং কংগ্রেস-সমর্থিত দ্বিদলীয় সংগঠন আমেরিকা ২৫০—দুটি পৃথক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশজুড়ে স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপনের আয়োজন করা হচ্ছে। এটি উদযাপনকে ঘিরেও রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জরিপ কী বলছে?

এপি-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ-এর এপ্রিল মাসের এক জরিপ অনুযায়ী—

প্রতি ১০ জন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে প্রায় ৪ জন স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী নিয়ে গর্বিত অনুভব করেন।

প্রায় ৩ জন বলেছেন, তারা এ উপলক্ষে উচ্ছ্বসিত।

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

কানসাসের আতশবাজি বিক্রেতা জো ফুকুয়া-বেহারানো বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও আমেরিকানদের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সহনশীলতা ও ঐক্যের ক্ষমতা।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনের জেরি চিন, যিনি নিজেকে ডেমোক্র্যাট সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন, বলেন তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ এবং পরিবর্তনের ব্যাপারে আশাবাদী নন।

তবে নিউ জার্সি থেকে আসা মাইকেল ড্রেসডনার বলেন, তাঁর ভ্রমণ দলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষ রয়েছেন, তবু সবাই যুক্তরাষ্ট্রকে ভালোবাসেন। তাঁর ভাষায়, "আমরা সবাই এখানে আছি, আর আমরা সবাই আমেরিকাকে ভালোবাসি।"

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর