আলি খামেনির ছয় দিনের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান: ইরানে লাখো-লাখো মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ছয় দিনব্যাপী জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। আয়োজকদের দাবি, এই অনুষ্ঠান শুধু শোক প্রকাশের নয়, বরং জাতীয় ঐক্য, প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের শক্তির বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ারও একটি উপলক্ষ

আলি খামেনির ছয় দিনের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান: ইরানে লাখো-লাখো মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা

আলি খামেনির ছয় দিনের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান: ইরানে লাখো-লাখো মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ছয় দিনব্যাপী জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। আয়োজকদের দাবি, এই অনুষ্ঠান শুধু শোক প্রকাশের নয়, বরং জাতীয় ঐক্য, প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের শক্তির বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ারও একটি উপলক্ষ।

শুক্রবার ভোর থেকেই তেহরানের বিভিন্ন সড়কে পুলিশি ব্যারিকেড, সেনা যান, ব্যানার ও পোস্টার স্থাপন শুরু হয়। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির শেষকৃত্য বিলম্বিত হয়েছিল।

ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ, যিনি এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক, একে "এই শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান" এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় জনসমাগম বলে উল্লেখ করেছেন।

পাঁচ শহরে ছয় দিনের অনুষ্ঠান

শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হবে। এরপর সোমবার রাজধানীতে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

পরবর্তী সূচি অনুযায়ী—

মঙ্গলবার: পবিত্র শহর কুম।

বুধবার: ইরাকের শিয়া ধর্মীয় নগরী কারবালা ও নাজাফ।

বৃহস্পতিবার: জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন।

উত্তরসূরি মুজতবা খামেনি অনুপস্থিত

খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মুজতবা খামেনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না বলে জানানো হয়েছে। একই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় খামেনির কন্যা, জামাতা, মুজতবার স্ত্রী এবং তাদের ১৪ মাস বয়সী কন্যাও নিহত হন।

মুজতবা এখন পর্যন্ত কেবল লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন। এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি তাকে হত্যার হুমকি দেন, যা ইরানে কট্টরপন্থীদের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রবিষয়ক নীতিমালা পুনর্বিবেচনার দাবিকে উসকে দিয়েছে।

২০ মিলিয়ন মানুষের সমাগমের পূর্বাভাস

তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি বলেছেন, সোমবারের শোকযাত্রায় প্রায় দুই কোটি (২০ মিলিয়ন) মানুষ অংশ নিতে পারেন, যা শহরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হতে পারে।

বিদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ

শুক্রবার বিদেশি প্রতিনিধিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে জানানো হলেও ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

কঠোর নিরাপত্তা

সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা ও অতিরিক্ত জনসমাগমের ঝুঁকি বিবেচনায়—

শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানে সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে।

সোমবার তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ রাখা হবে।

সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলা ঠেকাতে যুদ্ধবিমান টহল দেবে।

রাজনৈতিক বার্তা

আয়োজকদের মতে, এই অনুষ্ঠান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের নতুন নেতৃত্বের প্রতি জনগণের সমর্থন প্রদর্শনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিরোধের বার্তা দেবে।

একই সঙ্গে আয়োজকেরা অর্থনৈতিক সংকটে থাকা সাধারণ মানুষের অসন্তোষ এড়াতে "ইরানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ" স্লোগানও ব্যবহার করছেন।

মুহাররমের প্রতীকী তাৎপর্য

খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহাররমে। শিয়া মুসলমানদের কাছে এই মাস কারবালার শহীদ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। ইরানি কর্তৃপক্ষ খামেনির মৃত্যুকে সেই প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে।

খামেনি তার শেষ দিকের এক ভাষণে বলেছিলেন:

"আমার মতো কেউ ইয়াজিদের মতো কারও কাছে আনুগত্য স্বীকার করে না। ইরানের সংস্কৃতির একটি জাতিও আমেরিকার মতো দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের কাছে মাথা নত করবে না।"

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর