নির্বাচনের ওপর প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতা নেই" — ফেডারেল বিচারকের মন্তব্য

ফেডারেল আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত নির্বাচনী নির্বাহী আদেশের বেশিরভাগ অংশ স্থায়ীভাবে বাতিল করেছে। আদালতের মতে, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নয়, বরং অঙ্গরাজ্য ও কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। ভোটারদের নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগসহ একাধিক প্রস্তাব এখন আইনি বাধার মুখে।

PostImage

নির্বাচনের ওপর প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতা নেই" — ফেডারেল বিচারকের মন্তব্য


ট্রাম্পের নির্বাচনী নির্বাহী আদেশ স্থায়ীভাবে আটকে দিলেন ফেডারেল বিচারক

বোস্টন, যুক্তরাষ্ট্র | ২৫ জুন ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগে বড় ধাক্কা দিয়েছে একটি ফেডারেল আদালত। বুধবার বোস্টনের ফেডারেল বিচারক ডেনিস ক্যাসপার ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনী নির্বাহী আদেশের অধিকাংশ ধারা স্থায়ীভাবে কার্যকর হতে নিষিদ্ধ করেছেন।

বিচারক ক্যাসপার তার রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা মূলত অঙ্গরাজ্য ও কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

গত বছর দেওয়া একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাকে এবার স্থায়ী রূপ দিয়েছেন তিনি।

কোন কোন বিধান বাতিল হলো?

আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা কার্যকর করা বন্ধ হয়ে গেল। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রামাণ্য দলিল বাধ্যতামূলক করা।
  • নির্বাচনের দিন ডাকযোগে পাঠানো হলেও পরে পৌঁছানো ব্যালট গণনা না করা।
  • নতুন নিয়ম না মানা অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া।

ডেমোক্র্যাটিক অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি জোট এই আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল।

আগেও বাধা পেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন

এর আগে ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালত ভোটার নিবন্ধন ফরমে নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার প্রচেষ্টা স্থগিত করেছিল। একই আদালত পরে সামরিক সদস্যদের ভোটার নিবন্ধন বা ব্যালট চাওয়ার সময় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনাও আটকে দেয়।

কংগ্রেসে নতুন আইন পাসের চেষ্টা

নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নে আইনি জটিলতা থাকায় ট্রাম্প এখন কংগ্রেসে আইন পাসের ওপর জোর দিচ্ছেন।

রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত SAVE America Act ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সারা দেশে নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার কথা বলছে। বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও এখনও সিনেটে আটকে আছে।

এ কারণে ট্রাম্প সিনেটের ফিলিবাস্টার নিয়ম বাতিলেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

হাউজিং বিল স্বাক্ষর স্থগিত

বুধবার ট্রাম্প একটি দ্বিদলীয় আবাসন বিল স্বাক্ষরের নির্ধারিত অনুষ্ঠানও বাতিল করেন। তিনি জানান, ভোটারদের জন্য নাগরিকত্ব যাচাই বাধ্যতামূলক করার আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত তিনি নতুন কোনো আইন স্বাক্ষর করবেন না।

অনাগরিক ভোটার বিতর্ক

ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে অনাগরিকদের ভোট দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থার বড় সমস্যা।

তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বর্তমানে ফেডারেল ভোটার নিবন্ধন ফরমে আবেদনকারীকে শপথ করে মার্কিন নাগরিক হওয়ার ঘোষণা দিতে হয়। মিথ্যা তথ্য দিলে ফৌজদারি অপরাধে কারাদণ্ড, জরিমানা এবং অনাগরিকদের ক্ষেত্রে বহিষ্কারের শাস্তিও হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায় সামনে

এদিকে ডাকযোগে ভোট গ্রহণ সংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় শিগগিরই দিতে যাচ্ছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।

রায়ে নির্ধারিত হবে, ব্যালট গণনার জন্য নির্বাচন দিবসের মধ্যেই তা পৌঁছাতে হবে কি না, নাকি নির্বাচন দিবসের ডাকমোহর থাকলে পরে পৌঁছানো ব্যালটও গ্রহণ করা যাবে।

এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৪টি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর