কূটনীতির সাফল্যে খুলল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তির পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। তবে সমুদ্রপথটি সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো উদ্বেগ রয়েছে। মাইন অপসারণ, নিরাপত্তা অনুমোদন এবং বীমা সংক্রান্ত নতুন নিয়মের কারণে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

কূটনীতির সাফল্যে খুলল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট

কূটনীতির সাফল্যে খুলল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পর খুলেছে হরমুজ প্রণালী, তবে নিরাপত্তা নিয়ে রয়ে গেছে শঙ্কা

ওয়াশিংটন/তেহরান: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রণালীটি এখনও পুরোপুরি নিরাপদ বলা যাচ্ছে না।

কূটনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ নতুন দফা আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও আলোচনায় যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে। দুই পক্ষের সামনে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা রয়েছে।

বাড়ছে জাহাজ চলাচল

সামুদ্রিক তথ্য প্রতিষ্ঠান AXSMarine-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এপ্রিলের পর সবচেয়ে বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। শুক্রবার অন্তত ১২টি জাহাজ—যার মধ্যে ৫টি তেলবাহী ট্যাংকার ও ৭টি পণ্যবাহী জাহাজ ছিল—প্রণালীটি ব্যবহার করেছে।

তবে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১১০টি জাহাজ চলাচল করত। সেই তুলনায় বর্তমান সংখ্যা এখনও অনেক কম।

মাইন অপসারণ বড় চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা অনুযায়ী, প্রণালীতে থাকা নৌ-মাইন ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা অপসারণের দায়িত্ব ইরানের ওপর বর্তেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইন অপসারণ অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ। ফলে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

নতুন নিয়ম জারি করেছে ইরান

ইরান ঘোষণা দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে ইচ্ছুক সব জাহাজকে আগে অনুমতিপত্র এবং বৈধ বীমা সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

তেহরানের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

লেবানন যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

এদিকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ নতুন করে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ঘোষণা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল।

উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরস্পরের বিরুদ্ধে লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য ইতিবাচক খবর। তবে মাইন অপসারণ, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমে না আসা পর্যন্ত নৌপথটি শতভাগ নিরাপদ বলা যাবে না।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর