সরকারি অনুদানের জন্য জমা শতাধিক চলচ্চিত্র প্রস্তাব, বাড়ছে নতুন নির্মাতাদের আগ্রহ

বাংলাদেশে সরকারি অনুদানে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিপুলসংখ্যক প্রস্তাব জমা পড়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে দেশের বিভিন্ন প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও তরুণ নির্মাতারা তাদের চলচ্চিত্র প্রকল্প জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রায় ১৮৯টি এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রায় ১৪০টি প্রস্তাব জমা পড়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বড় অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

PostImage

সরকারি অনুদানের জন্য জমা শতাধিক চলচ্চিত্র প্রস্তাব, বাড়ছে নতুন নির্মাতাদের আগ্রহ


২০২৫–২৬ অর্থবছরে ১২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও ২০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পাবে অনুদান; নির্বাচন করবে বিশেষজ্ঞ কমিটি

বাংলাদেশে সরকারি অনুদানে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিপুলসংখ্যক প্রস্তাব জমা পড়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে দেশের বিভিন্ন প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও তরুণ নির্মাতারা তাদের চলচ্চিত্র প্রকল্প জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রায় ১৮৯টি এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রায় ১৪০টি প্রস্তাব জমা পড়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বড় অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলচ্চিত্র অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি অনুদানকে কেন্দ্র করে নতুন নির্মাতাদের আগ্রহ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেকেই সামাজিক বাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, নারী-কেন্দ্রিক গল্প ও সমকালীন নানা বিষয় নিয়ে চিত্রনাট্য জমা দিয়েছেন।

মোট ৩২টি চলচ্চিত্র পাবে অনুদান

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে ১২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও ২০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র—মোট ৩২টি সিনেমা অনুদানের জন্য নির্বাচন করা হবে। সংশ্লিষ্ট কমিটি জমা পড়া সব প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করবে।

সাধারণত একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা এবং একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হয়। নির্মাণের বিভিন্ন ধাপে এই অর্থ পরিশোধ করা হয়ে থাকে।

আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো

প্রথমদিকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনেক নির্মাতা প্রস্তুতি শেষ করতে না পারায় আবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানোর দাবি ওঠে। পরে মন্ত্রণালয় সময়সীমা বাড়িয়ে ১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রস্তাব জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়। ফলে শেষ সময়ে আরও নতুন প্রস্তাব জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যেভাবে যাচাই হবে প্রস্তাব

জমা পড়া প্রতিটি প্রকল্প চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি মূল্যায়ন কমিটি যাচাই করবে। গল্পের মৌলিকতা, সামাজিক গুরুত্ব, নির্মাণ পরিকল্পনা, বাজেট, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নির্মাতার অভিজ্ঞতা—এসব বিষয় বিবেচনা করেই চূড়ান্তভাবে অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্বাচন করা হবে।

বাড়ছে তরুণ নির্মাতাদের অংশগ্রহণ

চলচ্চিত্র অঙ্গনের পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল আগ্রহের কারণে এবার তরুণ নির্মাতাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেকে প্রথমবারের মতো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করেছেন।

একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“সরকারি অনুদান নতুন নির্মাতাদের জন্য বড় সুযোগ। ভালো গল্প থাকলে এই অনুদানের মাধ্যমে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ করা সম্ভব।”

শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে তালিকা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার পরপরই যাচাই-বাছাই শুরু হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে কয়েক মাসের মধ্যেই অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের তালিকা প্রকাশ করতে পারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, বিপুলসংখ্যক প্রস্তাব জমা পড়া দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন উদ্যমের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন অপেক্ষা—কোন গল্পগুলো শেষ পর্যন্ত সরকারি অনুদান পেয়ে বড় পর্দায় আসবে।