যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার স্বপ্ন আরও কঠিন, বন্ধকের সুদ ৭.৪০ শতাংশে, রেকর্ড দামে চাপে পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে পুরোনো বাড়ি বিক্রি বাড়লেও বন্ধকের উচ্চ সুদ ও রেকর্ড দামের কারণে সাধারণ পরিবারের বাড়ি কেনার সামর্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার বাজারে নতুন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে পুরোনো বাড়ির বিক্রি আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে, কিন্তু বাড়ির দাম ও গৃহঋণের সুদ এতটাই বেশি যে বহু পরিবারের জন্য নিজের বাড়ি কেনা এখনো কঠিন। রয়টার্সের ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রি বাড়লেও আবাসনবাজারের সামগ্রিক গতি দুর্বল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১.৫ শতাংশ বেড়ে বার্ষিক হিসাবে ৩৯ লাখ ৯০ হাজারে পৌঁছেছে। তবে এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি ২.২ শতাংশ কম ছিল। অর্থাৎ মাসিক হিসাবে সামান্য উন্নতি হলেও বাজার এখনো আগের বছরের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হলো ঋণের সুদ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ত্রিশ বছরের গৃহঋণের সুদ প্রায় ৭.৪০ শতাংশের কাছাকাছি থাকার কথা বলা হয়েছে। সুদের হার বেশি হলে বাড়ির দাম একই থাকলেও মাসিক কিস্তি বেড়ে যায়। ফলে ক্রেতাদের আয় থেকে বাড়ির পেছনে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় এবং অন্য খরচের জন্য হাতে কম টাকা থাকে।
বাড়ির দামও ক্রেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ ডলার সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবে রেকর্ড সর্বোচ্চ। এই দাম ও উচ্চ সুদের সমন্বয় বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে চাওয়া তরুণ এবং মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য চাপ তৈরি করছে।
তবে বাজারে একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির সংখ্যা বেড়ে ১৬ লাখে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ সরবরাহ। বাড়ির বিকল্প বাড়লে ক্রেতারা তুলনা করার এবং উপযুক্ত বাড়ি বেছে নেওয়ার বেশি সুযোগ পেতে পারেন। কিন্তু সরবরাহ বাড়লেই বাড়ি সবার নাগালে চলে আসে না—দাম ও ঋণের সুদও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমবার বাড়ি কেনা ব্যক্তিরা বাজারের চাপের মুখে রয়েছেন। সেপ্টেম্বরে মোট ক্রেতার মধ্যে তাঁদের অংশ ছিল ৩১ শতাংশ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি সুস্থ আবাসনবাজারে প্রথমবারের ক্রেতাদের অংশ সাধারণত প্রায় ৪০ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট খাতের অনেকে মনে করেন। বর্তমান হার সেই মাত্রার নিচে রয়েছে।
বাজারের এই পরিস্থিতি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বাড়ির দাম, ভাড়া, ঋণের সুদ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। তবে বাড়ি কেনার সামর্থ্য শুধু সুদের ওপর নির্ভর করে না; আয়, কর্মসংস্থান, স্থানীয় বাড়ির সরবরাহ, কর ও বীমার খরচও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরে বাড়ি বিক্রির সামান্য বৃদ্ধি বাজারে বড় ধরনের পুনরুদ্ধারের প্রমাণ নয়। বাড়ির দাম এখনো উচ্চ, ঋণের সুদও ব্যয়বহুল, আর প্রথমবার বাড়ি কিনতে চাওয়া ব্যক্তিদের অংশ তুলনামূলক কম। সুদের হার কমে এবং বাড়ির দাম ও আয়ের মধ্যে ব্যবধান সংকুচিত না হলে বহু মার্কিন পরিবারের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ কঠিনই থেকে যেতে পারে।





