তেলের দাম বাড়ায় চাপে মার্কিন পরিবার, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের খরচ বাড়ার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ, গ্যাসোলিন ও দৈনন্দিন ব্যয়ের দিকে নজর রাখছেন সাধারণ মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পরিবহন, পণ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে পড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে মিশ্র লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৬৫ ডলারে পৌঁছায়। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে।
তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দামও বাড়তে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে প্রতিটি এলাকার পাম্পের দাম তাৎক্ষণিকভাবে একই হারে বাড়ে না। স্থানীয় কর, শোধনাগারের সক্ষমতা, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহের ওপরও দাম নির্ভর করে।
গাড়িনির্ভর এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো জ্বালানির জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হলে খাবার, পোশাক, বাসাভাড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে খরচ কমাতে পারে। ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে কিছু পণ্যের দামেও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সব পণ্যের দাম বাড়বে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করে। রয়টার্সের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ক্লিভল্যান্ড ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যাম্যাক বলেছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে অর্থনৈতিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতে পারে। তবে সুদের হার বাড়ালে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশের দিকে নজর রয়েছে বাজারের। এই তথ্য থেকে পরিবারগুলোর পণ্য ও পরিষেবার ব্যয়ের পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। পরিসংখ্যান প্রকাশের পর মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সাধারণ মানুষের জন্য এখন জ্বালানির দাম, বিদ্যুৎ বিল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ি চালানোর খরচ কমাতে সম্ভব হলে একাধিক কাজ একসঙ্গে করা, জ্বালানির দাম তুলনা করা এবং মাসিক বাজেট পরিকল্পনা করা সহায়ক হতে পারে।





