ছাঁটাই বাড়লেও বেকারত্বের আবেদন কম, যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে এখনো মিশ্র সংকেত স্পষ্ট
অ্যামাজনের নতুন ছাঁটাইসহ কর্মসংস্থানে চাপ থাকলেও বেকারত্ব ভাতার আবেদন কমেছে, শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতা ও দুর্বল নিয়োগের দুই ছবি এখন দেখা যাচ্ছে।
ছাঁটাই বাড়লেও বেকারত্বের আবেদন কম, যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে এখনো মিশ্র সংকেত স্পষ্ট
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে একই সঙ্গে স্থিতিশীলতা ও দুর্বলতার দুই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে নতুন বেকারত্ব ভাতার আবেদন কমে ১ লাখ ৯৭ হাজারে নেমেছে। এর আগের সপ্তাহে সংশোধিত হিসাবে আবেদন ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার। চার সপ্তাহের গড়ও কিছুটা কমেছে।
নতুন বেকারত্বের আবেদন কম থাকা সাধারণত শ্রমবাজারে বড় ধরনের ছাঁটাই না হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে এই আবেদন ধারাবাহিকভাবে তুলনামূলক নিচু পর্যায়ে রয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই না করে বর্তমান কর্মীদের ধরে রাখছে বলে অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে চাকরির বাজার পুরোপুরি শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। নতুন কর্মী নিয়োগের গতি ধীর হয়ে গেছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মাত্র ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে বলে সর্বশেষ তথ্যের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগস্টে যেখানে ১ লাখ ৩৩ হাজার চাকরি যোগ হয়েছিল, তার তুলনায় সেপ্টেম্বরের সংখ্যা অনেক কম।
আরেকটি বড় খবর হলো, অ্যামাজন যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে এক হাজারের কম কার্যালয়ভিত্তিক কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা নিশ্চিত করেছে। এই ছাঁটাই মূলত প্রতিষ্ঠানটির দোকান ও অনলাইন বাণিজ্য পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বিভাগে হয়েছে। এর আগে গত বছর থেকে চলতি বছরের শুরু পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩০ হাজার কর্মী কমিয়েছিল।
অ্যামাজনের নতুন ছাঁটাই দেখাচ্ছে যে বড় প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যয় কমানো এবং কর্মীদের সংখ্যা পুনর্বিন্যাসের দিকে নজর দিচ্ছে। মহামারির সময় অতিরিক্ত নিয়োগের পর অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কর্মীদের প্রয়োজন নতুন করে মূল্যায়ন করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহারও কিছু কাজের ধরন পরিবর্তন করছে।
তবে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারকে অ্যামাজনের ছাঁটাই দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না। একটি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত জাতীয় শ্রমবাজারের সামগ্রিক চিত্র প্রকাশ করে না। বরং বেকারত্ব ভাতার আবেদন, নতুন নিয়োগ, মজুরি বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে রয়েছে। এটি ঐতিহাসিকভাবে খুব বেশি নয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খুঁজেও কাজ না পাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বেকার থাকা মানুষের সংখ্যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে শ্রমবাজারকে বর্তমানে এমন একটি অবস্থায় দেখা হচ্ছে, যেখানে কর্মীদের ছাঁটাই তুলনামূলক কম হলেও নতুন নিয়োগও কম। যারা ইতোমধ্যে চাকরিতে রয়েছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। কিন্তু যারা নতুন চাকরি খুঁজছেন, তাদের জন্য সুযোগ পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী মাসগুলোতে নিয়োগের গতি শ্রমবাজারের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে থাকবে। বেকারত্বের আবেদন যদি নিচু থাকে কিন্তু নিয়োগ কম থাকে, তাহলে অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি দুর্বল থাকার আশঙ্কা থাকবে। আবার প্রতিষ্ঠানগুলো যদি বিনিয়োগ ও নিয়োগ বাড়ায়, তাহলে বর্তমান ধীরগতি সাময়িকও হতে পারে।
আজকের তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে বড় ধরনের ধসের প্রমাণ দিচ্ছে না। একই সঙ্গে শ্রমবাজার শক্তিশালী অবস্থায় আছে—এমন দাবিও পুরোপুরি করা যাচ্ছে না। কম ছাঁটাই এবং কম নিয়োগ—এই দুই প্রবণতার মধ্যেই বর্তমানে মার্কিন কর্মসংস্থানের বাস্তব চিত্র তৈরি হয়েছে।