যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই জোরদার, তথ্য গোপনে সমস্যা

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন বা ভুলভাবে দেওয়া হলে ভিসা আবেদনে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ভিসা আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা ভালোভাবে যাচাই করুন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই জোরদার,  তথ্য গোপনে সমস্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই জোরদার, তথ্য গোপনে সমস্যা


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে আই, টিএন ও টিডি শ্রেণির আবেদনকারীদেরও অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। আই ভিসা মূলত বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য। টিএন ভিসা যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বাণিজ্য চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য এবং টিডি ভিসা তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য।

এই শ্রেণির আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব প্রোফাইলের গোপনীয়তা সেটিং ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আবেদনকারীর প্রকাশ্য অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা করা সহজ হবে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য না দিলে সব ধরনের ভিসা আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান হবে, এমনটি সঠিক নয়। বর্তমানে অনলাইন উপস্থিতি যাচাই নির্দিষ্ট ভিসা শ্রেণির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য। পররাষ্ট্র দপ্তরের তালিকায় এফ-১, এফ-২, এম-১, এম-২, জে-১, জে-২, এইচ-১বি, এইচ-৪সহ আরও কয়েকটি শ্রেণি আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১ অক্টোবর থেকে আই, টিএন ও টিডি শ্রেণিও এতে যুক্ত হয়েছে।

২০১৯ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ ভিসা আবেদনপত্রে আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতি বা শনাক্তকারী তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এসব তথ্য নিরাপত্তা যাচাই ও আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা যাচাইয়ের সময় বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য বিবেচনা করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য আইনগতভাবে যোগ্য কি না এবং জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে কি না, তা যাচাই করা।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কনস্যুলার কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাসওয়ার্ড চাইবেন না। প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা পাসওয়ার্ড চাইবেন না এবং আবেদনকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণের সেটিং নিজেরা পরিবর্তন করতে পারবেন না।

বাংলাদেশ থেকে যারা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী, কর্মসংস্থান, সাংবাদিকতা, পেশাজীবী বা নির্দিষ্ট পারিবারিক ভিসার জন্য আবেদন করছেন, তাদের আবেদন করার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণির সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা কী—তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে সাংবাদিকদের জন্য বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আই ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি যাচাই ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত কাজে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই নতুন যাচাইয়ের আওতায় পড়তে পারেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট মতামত থাকা মানেই ভিসা প্রত্যাখ্যান হবে—এমন সরল নিয়মও নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসার সিদ্ধান্ত বিদ্যমান মার্কিন আইনের অধীনে আবেদনকারীর যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে।

সবচেয়ে নিরাপদ পরামর্শ হলো—ভিসা ফরমে কোনো তথ্য গোপন না করা, ভুল তথ্য না দেওয়া এবং নিজের ভিসা শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর