নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিসহ ৩৭ রাজ্যে ১ লাখ ২২ হাজার গ্যাটোরেডের বোতল প্রত্যাহার
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গ্যাটোরেডের ১ লাখ ২২ হাজারের বেশি কেস বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। লেবেলে উল্লেখ না থাকা কৃত্রিম খাদ্য রং পাওয়ায় নেওয়া হয়েছে এই পদক্ষেপ।
নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিসহ ৩৭ রাজ্যে ১ লাখ ২২ হাজার গ্যাটোরেডের বোতল প্রত্যাহার
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় স্পোর্টস ড্রিংক গ্যাটোরেডের এক লাখ ২২ হাজারের বেশি কেস বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। লেবেলে উল্লেখ না থাকা কৃত্রিম খাদ্য রং থাকার কারণে এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাহারের আওতায় থাকা পণ্য ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে বিক্রি ও বিতরণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিও রয়েছে।
প্রত্যাহার করা পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ২৮ আউন্সের গ্যাটোরেড লেমন লাইম, গ্যাটোরেড লেমন লাইম জিরো, গ্যাটোরেড অরেঞ্জ এবং গ্যাটোরেড অরেঞ্জ জিরো। এসব পণ্যে ইয়েলো নম্বর ৫ এবং অথবা ইয়েলো নম্বর ৬ নামের কৃত্রিম খাদ্য রং পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পণ্যের লেবেলে এসব উপাদানের প্রয়োজনীয় ঘোষণা ছিল না।
প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পেপসিকো গত ২৫ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছায় এসব পণ্য প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে। পরে ২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বিষয়টি ক্লাস-২ প্রত্যাহার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। সোমবার, ৫ অক্টোবর, বিষয়টি নতুন করে সাধারণ মানুষের নজরে আসে।
ক্লাস-২ প্রত্যাহারের অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট পণ্য ব্যবহারের কারণে সাময়িক বা চিকিৎসায় ফেরানো সম্ভব এমন বিরূপ স্বাস্থ্যপ্রভাবের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। তাই এই প্রত্যাহারকে এমনভাবে দেখা ঠিক হবে না যে প্রতিটি বোতল পান করলেই গুরুতর অসুস্থতা হবে। মূল বিষয় হলো, পণ্যে এমন উপাদান পাওয়া গেছে যা লেবেলে যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
প্রত্যাহারের আওতায় থাকা গ্যাটোরেড ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। তালিকায় নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় বাজার রয়েছে। ফলে শুধু একটি শহর বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভোক্তাদের জন্য নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের জন্যই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দুই অঙ্গরাজ্যে বিপুলসংখ্যক দক্ষিণ এশীয় পরিবার বসবাস করে এবং গ্যাটোরেডের মতো বহুল পরিচিত পানীয় নিয়মিত বিভিন্ন দোকান, সুপারমার্কেট ও অন্যান্য খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে কেনা হয়।
ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাড়িতে থাকা গ্যাটোরেডের বোতল বা প্যাকেট দেখেই আতঙ্কিত না হয়ে পণ্যের নাম, আকার এবং লট নম্বর মিলিয়ে দেখা। প্রত্যাহারের আওতায় থাকা নির্দিষ্ট পণ্য শনাক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট লট নম্বর ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রত্যাহার করা কিছু লট নম্বরের উদাহরণও প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রত্যাহারের আওতায় থাকা একটি লটের উদাহরণ হলো ০৯১০২৬ ডিএল, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ৭ জুন পর্যন্ত। আরেকটি হলো ০৯১১২৬ ডিএল, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ৮ জুন। এছাড়া ০৭২২২৬ ডিটি এবং ০৭২৪২৬ টিএল নামের লটও তালিকায় রয়েছে। তবে শুধু কয়েকটি লট নম্বর দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়; ভোক্তাদের নিজেদের পণ্যের তথ্য প্রত্যাহার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
ইয়েলো নম্বর ৫ ও ইয়েলো নম্বর ৬ হলো খাবার ও পানীয়ের রং পরিবর্তনে ব্যবহৃত কৃত্রিম রং। কোনো খাদ্যপণ্যে ব্যবহৃত উপাদান সঠিকভাবে লেবেলে উল্লেখ না থাকলে ভোক্তারা সেই পণ্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। বিশেষ করে যেসব মানুষ নির্দিষ্ট উপাদান এড়িয়ে চলেন, তাদের জন্য সঠিক লেবেল তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের ক্লাস-২ শ্রেণিবিন্যাসকে সরাসরি বড় ধরনের বিষক্রিয়া বা ব্যাপক অসুস্থতার ঘোষণা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। প্রশাসনের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা দূরবর্তী, তবে সাময়িক বা চিকিৎসায় ফেরানো সম্ভব এমন বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
এ কারণে ভোক্তাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত। যদি কারও কাছে প্রত্যাহারের আওতায় থাকা পণ্য থাকে, সেটি পান করার আগে লট নম্বর ও পণ্যের তথ্য যাচাই করা উচিত। প্রত্যাহারের আওতায় পড়লে পণ্য ব্যবহার না করাই নিরাপদ পদক্ষেপ।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যপণ্যের লেবেল ও ভোক্তা নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ বোতলজাত পানীয়, খাবার ও প্রস্তুত পণ্য কিনছেন। এসব পণ্যের উপাদান সম্পর্কে সঠিক তথ্য থাকা ভোক্তার অধিকার এবং খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পেপসিকো ২৫ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার শুরু করলেও ২ অক্টোবর খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস-২ প্রত্যাহার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। অর্থাৎ বিষয়টি এখন শুধু কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজরেও এসেছে।
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বাসিন্দাদের জন্য তাই নিজেদের ঘরে থাকা সংশ্লিষ্ট গ্যাটোরেডের বোতল পরীক্ষা করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পরিবারের শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা নিয়মিত স্পোর্টস ড্রিংক পান করেন এমন সদস্যদের ক্ষেত্রেও পণ্যের লেবেল ও প্রত্যাহারের তথ্য যাচাই করা উচিত।
এই প্রত্যাহারকে গ্যাটোরেডের সব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা যাবে না। বর্তমানে যে তথ্য প্রকাশ হয়েছে, তা নির্দিষ্ট কিছু ২৮ আউন্স বোতল এবং নির্দিষ্ট লটের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই কোনো গ্যাটোরেড পণ্য কেনার আগে নাম, বোতলের আকার, লট নম্বর এবং প্রত্যাহারের তালিকা মিলিয়ে দেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য ও পানীয়ের কোনো পণ্য প্রত্যাহার হলে ভোক্তাদের দ্রুত তথ্য যাচাই করা এবং সন্দেহজনক পণ্য ব্যবহার বন্ধ রাখা নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিসহ ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে বিতরণ হওয়ায় এবারের গ্যাটোরেড প্রত্যাহারও ব্যাপকসংখ্যক ভোক্তার নজরে এসেছে।